করোনায় কাজ হারিয়ে গ্রামের পথে হাজারো মানুষ

করোনার প্রভাবে দেশের অনেক প্রতিষ্ঠান এখন বন্ধ। যেগুলো সীমিত পরিসরে চালু হয়েছে সেগুলোতেও ক্ষতি পুষিয়ে নিতে চলছে কর্মী ছাঁটাই। আবার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও করোনা ঝড়ে খেই হারিয়েছেন ব্যবসার। সল্প আয়ের এইসব মানুষের বাসা-ভাড়া দেয়া কিংবা ঢাকায় পরিবার নিয়ে থাকার সামর্থ্যও হারিয়ে গিয়েছে। আর তাই পরিবারসহই অনেকে ছুঁটছেন গ্রামের দিকে। কেউ পরিবারকে পাঠিয়ে নিজেই রয়ে যাচ্ছেন ঢাকায়।

তাদের কারও মনে এতটুকও আশা নেই আবার কবে সবাইকে নিয়ে ঢাকায় ফিরতে পারবেন।

তেমনই এক ব্যক্তি পরিবার নিয়ে থাকতেন উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টর সংলগ্ন প্রিয়াঙ্কা সিটিতে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক একটি বিমান সংস্থার ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম এজেন্ট ছিলেন তিনি। বিমান চলাচল বন্ধের দুই সপ্তাহ পর তিনিও হারান চাকরি। চাকরি হারিয়ে টানাটানির সংসারে বাড়ি ভাড়া নিয়েও বাড়িওয়ালার সঙ্গে বিতর্ক হয় তার। শেষে পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়িতে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

নাম না প্রকাশের শর্তে তিনি জানান, মা, স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে ১৯ মে ঢাকা ছেড়েছেন। সঙ্গে ট্রাকে করে নিয়ে গেছেন আসবাবসহ অন্যান্য জিনিসপত্র। চাকরির ব্যবস্থা না হলে তার ঢাকায় ফেরা অনিশ্চিত।

একটি পোশাক কারখানায় সহকারী ব্যবস্থাপক (স্টোর) হিসেবে কাজ করেন রবিউল ইসলাম। পরিবারের চার সদস্যকে নিয়ে থাকতেন সাভারের ফুলবাড়িয়া এলাকায়। তিনি জানান, প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় মাত্র ৬৫ ভাগ বেতন পেয়েছেন। অনিশ্চয়তার কারণে ঈদের এক সপ্তাহ আগে মা, ভাই, স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি রাজশাহীতে চলে যান।

সম্প্রতি কারখানা খুলে দেওয়ায় তিনি এসে কাজে যোগ দিয়েছেন। চোখের সামনেই দেখছেন, কর্মীদের কেউ কেউ অসুস্থ থাকলেও চাকরি হারানোর ভয়ে তা চেপে যাচ্ছেন। কেউ প্যারাসিটামল খেয়ে, কেউ সাপোজিটর নিয়ে তাপমাত্রা কম দেখিয়ে কাজে যোগ দিয়েছেন। তবে এখন চাকরিতে বহাল থাকবেন কিনা, কী হারে বেতন পাবেন- এসব নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন সবাই।

বার্তাবাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর