গোপনে টেন্ডার: ঠিকাদারদের তোপের মুখে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক

কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে সম্প্রতি পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেয়ার লক্ষ্যে গোপন টেন্ডারের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

করোনা সংকটে জর্জরিত জাতীর এই ক্রান্তিকালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আইসোলেশনে থেকে দুর্নীতি অনিয়ম আর গোপন টেন্ডার চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন টেন্ডার বঞ্চিতরা ।

হাসপাতালের পথ্য, ধূপি ও ষ্টেশনারী ঠিকাদারী কাজ গোপনে সম্পূর্ন করার লক্ষ্যে বিজ্ঞাপন গোপন করে টেন্ডার কার্য্য সম্পন্ন করার অপকৌশল ফাঁস হয়েছে। ফলে টেন্ডার কাজে অংশগ্রহনে বঞ্চিত ঠিকাদারদের তোপের মুখে পড়েন কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা: জাকিরুল ইসলাম লেলিন। গত ২৮ মে দরপত্র দাখিলের শেষ দিনে অন্যান্য ঠিকাদাররা খবর পেয়ে তত্বাবধায়কের কার্য্যালয় ঘেরাও করে। এসময় ঠিকাদারদের এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে সাংবাদিকরা তত্ববধায়কের কার্য্যলয়ে গিয়ে উপস্থিত হন। কোন পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়েছে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি অকপটে স্বীকার করেন বহুল প্রচারিত নয় এমন দুটি পত্রিকা নাম। দৈনিক এশিয়ার বানী ও দৈনিক মুসলিম নিউজ।

পত্রিকা দুটি দেখতে চাইলে তিনি তা দেখাতেও ব্যার্থ হন এবং বলেন করোনার কারণে পত্রিকা দুটি কুড়িগ্রামে আসেনি। আদৌ বিজ্ঞাপনটি কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে কি না তা নিয়ে শংসয় রয়েছে। হাসপাতালের হিসার রক্ষক আশরাফ মজিদ জানান,”বিজ্ঞাপনটি দৈনিক এশিয়ার বানী ও দৈনিক মুসলিম নিউজ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে তবে তা অদ্যাবদি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে এসে পৌচ্ছায়নি।”

ছবি: বার্তা বাজার

ভুক্তভুগিদের অভিযোগে জানা যায়, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল জেলাবাসীর চিকিৎসার একমাত্র ভরসা। কাংঙ্খিত চিকিৎসা সেবা তো দূরের কথা উল্টো হাসপাতালের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সীমাহীন দূর্নীতির কারনে বিনামূল্যের ওষুধ অতিরিক্ত মূল্যে কিনতে হয় রোগীদের। হাসপাতালে কম্বল, মশারী, চাদর ও বালিশের কভার দেয়ার নিয়ম থাকলেও সেগুলো পায়না সব রোগী। অসাধু উপায়ে হাসপাতালের ঠিকাদারী কাজ পাইয়ে দিয়ে নিজেই ঠিকাদারী করেন হিসাব রক্ষক আশরাফ মজিদ। হাসপাতালের বিভিন্ন কাজে দূর্নীতি করে কোটি কোটি হাতিয়ে নিচ্ছেন হাসপাতালের একটি সিন্ডিকেট।

অভিযোগে আরো জানা যায়, করোনা সংকটের আগে হাসপাতালে আউট সোর্সিং এর ঠিকাদারী কাজে দরপত্র দাখিল সম্পর্ন হয়। করোনার কারনে দীর্ঘদিন সিদ্ধান্ত না দিলেও তড়িঘরি করে গত সপ্তাহে চুড়ান্ত ঠিকাদার নিয়োগের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রেরন করা হয়। সেখানেও গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। টেন্ডার শর্তবলীর মধ্যে গুরুত্ত্বপূর্ণ ব্যাংক সলভেন্সী, সংশ্লিষ্ট কাজের অভিজ্ঞতার সনদ ও কেন্দ্রীয় সিকিউরিটি সার্ভিসের সদস্য হওয়া বাধত্যমূলক। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিপুল পরিমান টাকা নিয়ে ভূয়া সনদ দেখিয়ে চূড়ান্ত ঠিকাদার হিসেবে স্বরলিপী সিকিউরিটি সার্ভিসিং প্রাইভেট লিমিটেড নামের প্রতিষ্ঠানকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে প্রেরন করে জোড়ালো তদবির করছেন।

অন্যদিকে, দরপত্রের সকল শর্তবলী পূরন করে আল ফারাহ সিকিউরিটি সার্ভিস টেন্ডারে অংশ গ্রহন করলেও তাকে দ্বিতীয় দরদাতা হিসেবে রাখা হয়েছে। লিখিত অভিযোগে জেলা সেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক ও আল ফারাহ সিকিউরিটি সির্ভিস লিমিডেটের স্থানীয় প্রতিনিধি মো: নূরুজামান অভিযোগ করে বলেন,”স্বরলিপী সিকিউরিটি সার্ভিস লিমিটেড এর অভিজ্ঞতার সনদ, ব্যাংক সলভেন্সী, কেন্দ্রীয় সিকিউরিটি সার্ভিসের সদস্যের ভূয়া সনদ জমা দিয়েছে। স্বরলিপীর দেয়া সনদ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যাচাই করলে তা ভূয়া প্রমাণিত হবে। ”

কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সেচ্ছাচারিতা ও দুর্নীতির একের পর এক আলামত রিতিমত উদ্বেগজনক। যা সরকারের দূর্নীতি বিরোধী অবস্থানকে মারাত্বক ভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করছে বলে মনে করেন অনেক সচেতন মহল ।

এসব অনিয়মের ব্যাপারে জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা: জাকিরুল ইসলাম মুঠোফোনে জানান, “ঠিকাদারদের সাথে একটু সমস্যা হয়েছিলো সেটা সমাধান হয়েছে। অনিয়ম দূর্নীতির কথা বললেই তিনি বলেন সিষ্টেমটি দীর্ঘদিনের যা আমি রাতারাতি ঠিক করতে পারবো না। “এর পর তিনি ফোন কেটে দেন।

বার্তা বাজার/সি.কে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর