সিঙ্গাইরে বিদ্যুৎ বিলের অসামঞ্জস্যে গ্রাহক অতিষ্ট

মহামারী করোনা পরিস্থিতিতে মানিকগঞ্জের সিংগাইরে আবাসিক ও বাণিজ্যিক পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহকরা অসামঞ্জস্য ও ভুতুড়ে বিলের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে পড়ছে। করোনা ভাইরাসে কারণে মানুষ যখন লকডাউনে গৃহবন্ধী, কর্মহীন ও উপার্জনহীন দিন কাটাচ্ছে, ঠিক তখনই বাড়তি বিল গ্রাহকের হাতে আসলে হতবম্ব হয়ে পড়েন তারা। আর এ বিল পরিশোধে দিশেহারা হয়ে গ্রাহকের যেন মরার ওপর খাড়ার ঘা।

মার্চ মাসের বিলের চেয়ে এপ্রিল ও মে মাসের বিদ্যুৎ বিল অসামঞ্জস্য বা তিন থেকে দশ গুণ বেশি হওয়ায় গ্রাহক চরম ভোগান্তিতে পড়লেও কর্তৃপক্ষ নিচ্ছে না কোন কার্যকারী পদক্ষেপ। এ ভুতুড়ে বিল থেকে বাদ পরেনি মসজিদ, মন্দির, স্কুল-কলেজও। প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিদ্যুৎ গ্রাহকরা অফিসে এসে এ অতিরিক্ত বিল সম্পর্কে জানতে চাইলে নয়-ছয় বুঝিয়ে বিল আদায়ের চেষ্টা চলছে বলেও অনেকে জানান। অনেক ক্ষেত্রে এ বাড়তি বিল গ্রাহকরা না দিতে চাইলে গ্রাহকদের নাজেহাল পর্যন্ত হতে হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সিংগাইর জোনাল অফিসে শত শত ভুক্তভোগী এ ভুতুড়ে বিল নিয়ে দিনভর বিভিন্ন টেবিলে ছুটাছুটি করছে। অফিস কর্তৃপক্ষ ও এক শ্রেণির দালাল চক্র গ্রাহকদের নয়-ছয় বুঝাচ্ছে এবং এ মাস পরেই বিল ঠিক হয়ে যাবে। উপায়ন্তর না পেয়ে লাইন কর্তনের ভয়ে দিন মুজুর গ্রাহকরা ধার-দেনা করে এ অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল দিতে বাধ্য হচ্ছে। এ বাড়তি বিলের কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, ১) করোনার ভয়ে সরেজমিনে মিটার রিডিং না দেখে অফিসে বসে আনুমানিক বিদ্যুৎ বিল করা, ২) মিটার রিডিং এ কারচুপি করা।

এদিকে করোনাভাইরাসের কারণে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে ঔষধের দোকান ব্যতীত দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকা সত্ত্বেও বিদ্যুৎ ব্যবহার না করেই বাড়তি বিল গুনতে হচ্ছে ছোট-বড় ব্যবসায়ীদেরও। এতে আর্থিকভাবে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে ব্যবসায়ীরা। ফলে এ উপজেলায় সরকারের ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ আয়নের কর্মসূচি ভেস্তে যেতে বসেছে ও ক্ষুন্ন হচ্ছে সরকারের মান। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বানিজ্যিক ও আবাসিক মিটার ব্যবহারকারী অভিযোগ করে বলেন স্বাভাবিক বিলের তিনগুন ধরে এপ্রিল মাসের বিল তৈরি করা হয়েছে।

জানা যায়,সিংগাইর পৌর এলাকার বাসষ্ট্যান্ডে সিরাজের বানিজ্যিক মিটার হিসাব নং-১০৯ তে ১৫৬০ টাকা মো.সানোয়ার হোসেনে হিসাব নং-০৩-২১৩-২৮৮৮তে ৯৯৩ টাকা, অতিরিক্ত বিলের সত্যতাও পাওয়া যায়। ভূমদক্ষিণ বাজারের ব্যবসায়ী মোবারক হোসেন বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে দোকান বন্ধ । কোন বিদ্যুৎ ব্যবহার হচ্ছে না, অথচ বিদ্যুৎ বিল এসেছে প্রায় চার গুণ। তার এক আত্বীয় বিদ্যুৎ অফিসে গেলে তার সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে অফিস কর্তৃপক্ষ বলেও জানান তিনি। এরকম প্রতিটি বিলের কপি ধরে সঠিকভাবে তদন্ত করলে এ ভুতুড়ে বিলের ভয়াবহ চিত্র বের হয়ে আসবে।স্থানীয়রা এ বাড়তি বিল মওকুফের জন্য সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

ডিজিএম মাহাবুবুর রহমান বাড়তি বিলের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন- এপ্রিল মাসে যে সমস্ত গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল বাড়তি এসেছে পরবর্তী মাসে তাদের বিদ্যুৎ বিল কম করে সমন্বয় করা হবে। পাশাপাশি করোনার কারণে বিদ্যুৎ বিলের জরিমানা মওকুফ করা হয়েছে। যাতে কোন গ্রাহক কোনক্রমেই বিদ্যুৎ ব্যবহারে হয়রানি শিকার না হয়।

বার্তা বাজার/সি.কে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর