জনপ্রিয় মাল্টিমিডিয়া নিউজ পোর্টাল বার্তা বাজারে সংবাদ প্রকাশের পর ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের তান্ডবে ক্ষতিগ্রস্থ সেই বিধবা সবেজান বেগম পেল নতুন ঘর, নগদ অর্থ ও খাদ্য সামগ্রী। এতে অসহায় পরিবারটি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে।
গত ২৭ মে বার্তা বাজার নিউজ পোর্টালে ‘আম্পান’র ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছেন বিধবা সবেজান বেগম’ এই শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি সমাজের বিত্তবান ও জনপ্রতিনিধিদের নজরে আসে।
সংবাদ প্রকাশের পর বিধবা সবেজান বেগমের ঘরটি সম্পূর্ণ নতুনরূপে নির্মাণ করে দেওয়ার দায়িত্ব নেন একই উপজেলার জাটিগ্রাম পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা মরিশাস প্রবাসী মো. আকাশ মিয়া। ঘর নির্মাণের যাবতীয় খরচ ব্যক্তিগত অর্থায়নে করবেন বলে জানান তিনি। ইতোমধ্যে ঘর নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে।
বিধবা সবেজান বেগমকে নগদ অর্থ দিয়ে সহায়তা করেছেন একই উপজেলার টগরবন্ধ ইউনিয়নের চর আজমপুর গ্রামের বাসিন্দা সিকদার লিটন। তিনি জানান, টাকার অভাবে অসহায় মহিলাটি তার বসতঘর সংস্কার করতে পারছে না বার্তা বাজারে এমন খবর পড়ে খুব খারাপ লেগেছে।
বার্তা বাজারে সংবাদ পড়ে বিধবা সবেজান বেগমকে হেল্পিং হ্যান্ড’স’ নামে একটি সেচ্ছাসেবী সংগঠনও কিছু নগদ অর্থ দিয়ে সহায়তা করেছে বলে জানা গেছে।
এদিকে গতকাল (রবিবার) বিকালে আলফাডাঙ্গা উপজেলা যুবলীগ নেতা মো. আশিকুর রহমান (আশিক) অসহায় সবেজান বেগমের বাড়িতে গিয়ে এক মাসের বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী পৌঁছিয়ে দেন। খাদ্য সামগ্রীর মধ্যে ছিলো চাল, ডাল, আটা, আলু ও তেল। আশিক জানান, ‘ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের প্রভাবে অসহায় পরিবারটির বসতঘর লন্ডভন্ড হয়ে গেছে বার্তা বাজারে এমন একটি খবর পড়ি। খবরটি পড়ে খুব খারাপ লাগে। অসহায় সবেজান বেগমকে এক মাসের খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছি। পরবর্তীতে প্রয়োজন হলে আবারও দিবো।’
এ বিষয়ে সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম আহাদুল হাসান জানান, ‘ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় সবেজান বেগমের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট আবেদন করা হয়েছে। সরকারি সহায়তা পেলেই তাকে পৌঁছিয়ে দেওয়া হবে।’
প্রসঙ্গত, ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার সদর ইউনিয়নের জাটিগ্রামে বিধবা সবেজান বেগমের বাড়ি। ছোট ছোট দু’টি মেয়ে রেখে প্রায় দুই যুগ আগে তার স্বামী মারা যান। স্বামীর মৃত্যুর পর অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালাতেন। অভাবের সংসারে মেয়েদের পড়াশোনা করাতে পারেননি। মেয়েরা বড় হলে তাদের বিয়ে দিয়ে দেন। অন্যের বাড়িতে কাজ করে সামান্য সঞ্চয়ের টাকা দিয়ে কোনরকম টিনের বেড়ার নড়বড়ে একটি ঘর তোলেন। অন্তত: মাথা গোঁজার মত একটু ঠাঁই ছিলো। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় আম্পান কেড়ে নিয়ে যায় তার বসতঘরটি। দুমড়ে-মুচড়ে দিয়ে যায় আশ্রয়ের শেষ ঠিকানা। টাকার অভাবে তিনি ঘরটি সংস্কার করতে পারছিলেন না। পরে বাধ্য হয়েই পাশের এক প্রতিবেশীর রান্না ঘরে কোনরকম আশ্রায় নিয়েছিলেন তিনি।
বার্তা বাজার/সি.কে