প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস আতঙ্কের মধ্যে গত মাসে ঘূর্ণিঝড় আম্ফান তাণ্ডব চালিয়ে গেছে ভারত-বাংলাদেশ উপকূলে। এতে প্রাণ হারিয়েছেন শতাধিক মানুষ, লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে অসংখ্য বাড়িঘর, গাছপালা, ভেঙেছে বাঁধ। শক্তিশালী এ ঝড়ের প্রভাব কতটা ভয়ঙ্কর ছিল তা আবারও বোঝা গেল ক্ষয়ক্ষতির হিসাব দেখে।
কেন্দ্র থেকে পাঠানো প্রতিনিধি দলের কাছে উপস্থাপিত প্রতিবেদনে পশ্চিমবঙ্গ সরকার জানায়, ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে রাজ্যে ক্ষতির মোট পরিমাণ কমপক্ষে ১ লাখ ২ হাজার ৪৪২ কোটি রুপি।
প্রতিবেদন জানানো হয়েছে, আম্ফানে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় সাড়ে ২৮ লাখ বাড়িঘর ভেঙে পড়েছে৷ এ থেকেই ক্ষতির পরিমাণ ধরা হয়েছে ২৮ হাজার ৫৬০ কোটি রুপি৷ নষ্ট হয়েছে লাখ লাখ হেক্টর জমির ফসল। এ খাতে ক্ষতির পরিমাণ ১৫ হাজার ৮৬০ কোটি রুপি৷
ঝড়ে নষ্ট হয়েছে প্রচুর ফলের বাগান ও পানের বরজ। এতে ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে ৬ হাজার ৫৮১ কোটি রুপি৷ মৎস্যচাষে ক্ষতি হযেছে ২ হাজার কোটি রুপির। ঝড় ও দুর্যোগে ২১ লাখ ২২ হাজার গবাদি পশু মারা গেছে৷ ফলে প্রাণিসম্পদ খাতে ক্ষতি ধরা হয়েছে অন্তত ৪৫২ কোটি রুপি।
ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে বিদ্যুৎখাতে ৩ হাজার ২৩০ কোটি রুপি ক্ষতির দাবি করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার৷ নষ্ট হয়েছে প্রায় দেড় লাখ হেক্টর বনভূমি৷ এতে ক্ষতি ১ হাজার ৩৩ কোটি রুপি। ঝড়ে শিক্ষাক্ষেত্রে ক্ষতি হয়েছে ৭৯৩ কোটি রুপির, স্বাস্থ্যক্ষেত্রে ১ হাজার ২৭০ কোটি, ক্ষুদ্র ব্যবসায় ক্ষতি ২৬ হাজার ৭৯০ কোটি রুপি।
শনিবার নবান্নে মুখ্যসচিবের সঙ্গে প্রায় দেড় ঘণ্টা বৈঠক হয়েছে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলটির৷ এসময় তাদের কাছে ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তুলে ধরেন রাজ্য সরকারের কর্মকর্তারা।
বার্তাবাজার/এমকে