করোনার থাবায় বন্ধ দেশের ক্রিকেট। বাসায় বসে ক্রিকেটাররা অনুশীলন করলেও তা যথেস্ট নয়। যার ফলে ঈদের আগে বাংলাদেশ জাতীয় দলের অন্যতম সদস্য মুশফিকুর রহীমসহ বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার ব্যক্তিগতভাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কাছে অনুশীলনের অনুমতি চায়। সেবার বিসিবি তাদের আহ্বানে সাড়া না দিলেও এবার অনুমতি দিয়েছেন। তবে টাইগারদের অনুশীলনের ভিডিও ও সংবাদ সংগ্রহের জন্য গণমাধ্যমকর্মীদের ভিড় করতে দেওয়া হবে না।
আজ শনিবার রাতে বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস জানান, গণমাধ্যমকে ভিড় করতে দেওয়া হবে না, ভিন্ন ব্যবস্থা করা হবে যাতে সংবাদ মিস না হয়ে যায়। জালাল ইউনুস বলেন, ‘গণমাধ্যম কর্মীদের জন্য বাধা থাকছে। কারণ আপনাদের ভালোর জন্যই এই বাধাটা থাকছে। তবে আপনারা যাতে মিস না করেন এই ব্যবস্থা করা হবে। আমরা চাই না সবাই একসাথে এসে এখানে ভিড় করুক, এটা সকলের জন্যই অনিরাপদ হয়ে যাবে।’
এর আগে আজ বিকেলে বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান আকরাম খান অনুশীলনের অনুমতি দেওয়ার কথা জানিয়ে বলেন, ‘প্লেয়াররা ব্যক্তিগতভাবে অনুশীলনের আগ্রহ প্রকাশ করে ঈদের আগে। ওরা যেহেতু বলছে আর কোন সময়ে আন্তর্জাতিক ইভেন্ট শুরু হয়ে যায় বলা যাচ্ছে না। আল্লাহর রহমতে যখন অবস্থা ভালো হয়ে যাবে তখন খেলা শুরু হবে। এর মধ্যে যারা আগ্রহ দেখিয়েছে অনুশীলনের জন্য তাদের সুযোগটা করে দিচ্ছি।’
তিনি বলেন, ‘অনুশীলনের সব সুযোগ-সুবিধা ক্রিকেট বোর্ডের তরফ থেকেই। যে কেউই চাইলে অনুশীলন করতে পারবেন। ঢাকার বাইরে যারা আছেন তারা চাইলে স্থানীয় স্টেডিয়ামগুলোতে অনুশীলন করতে পারবেন। আর ঢাকাতে যারা আছেন তারা শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম অথবা একাডেমি মাঠে। থাকছে না কোনো কোচ ট্রেইনার।’
আকরাম খান বলেন, ‘আমরা সব ব্যবস্থা রাখছি, কেউ যদি নেটে ব্যাটিং অনুশীলন করতে চায় তারা করবেন, বোলিং মেশিনে করতে চাইলেও পারবে। ঢাকার বাইরে যারা আছে তারা যদি চায় তাহলে স্থানীয় স্টেডিয়ামগুলোতে ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। তবে কোচ-ট্রেইনার কাউকেই আমরা এখন রাখছি না।’
এরমধ্যেই আলোচনা চলছে বাংলাদেশ দলের শ্রীলঙ্কা সিরিজ নিয়ে। দেশটির ক্রিকেট বোর্ড (এসএলসি) জানিয়েছে তারা আতিথ্য দিতে প্রস্তুত। তবে বিসিবি বলছে এখনো তারা অবস্থার পর্যবেক্ষণ করছেন। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আরও পরে।
আকরাম খান বলেন, ‘শ্রীলঙ্কা সিরিজের সিদ্ধান্ত হলে আমরা ক্রিকেটারদের অনুশীলন বাধ্যতামূলক করতাম। আমরা ক্রিকেটারদের অনুশীলন বাধ্যতামূলক করছি না। যারা চায় শুধু তারাই করবে। শ্রীলঙ্কা সিরজ নিয়ে আমরা এখনো অবস্থার ওপর নির্ভর করছি। আমরা আরও কিছুদিন দেখব তারপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব। অবস্থা আল্লাহর রহমতে ভালো হলে আমরা সিদ্ধান্ত নেব।’
কে.এ.স/বার্তাবাজার