কয়েক বছর ধরে পাচারকারীরা ইউরোপে যাওয়ার লোভ দেখিয়ে মানুষকে লিবিয়ায় নিচ্ছে। সেখানে তাঁরা অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। ইউরোপে যেতে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে অনেকে মারা যান। আর এই মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ করার কথা থাকলেও বছরের পর বছর ঝুলছে এসব মামলা।
আট বছরে এ আইনে করা ৫ হাজার ৭১৬টি মামলার মাত্র ৪ শতাংশের নিষ্পত্তি হয়েছে।
এ ক্ষেত্রে সাক্ষী হাজির না হওয়ায় বড় কারন বলে মনে করেন মামলা পরিচালনাকারীরা। আর সাক্ষী পেতে তৈরি হওয়া নানা বিড়ম্বনার কথা বলছে, পুলিশ।
এসব ঘটনায় মামলা যদিও–বা হয়, তদন্ত আর বিচার এগোয় না। পুলিশের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র বলেছে, ২০১২ সালে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনটি হওয়ার পর থেকে গত ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৬ হাজার মামলায় ৯ হাজার ৬৯২ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। আর ২০১৪ সাল থেকে এযাবৎ মাত্র ৫৪ জনের সাজা হয়েছে। মামলা নিষ্পত্তির হারই খুব কম।
মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল এবং ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ করার কথা থাকলেও বছরের পর বছর ঝুলছে এসব মামলা।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির তথ্য বলছে, আইনটি হওয়ার পর গত প্রায় আট বছরে দেশে ৫ হাজার ৭১৬টি মামলা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে ২৪৭টি অর্থাৎ মাত্র ৪ শতাংশ মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে।
সাক্ষী হাজির না হওয়ায় মামলা দীর্ঘায়িত হবে বলে দাবি করছেন মামলা পরিচালাকারীরা।
ঢাকা সি.এম.এম আদালতের সহকারি পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট হেমায়েত উদ্দিন খান হিরন বলেন, বিজ্ঞ বিচারক চেষ্টা করেন মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করার কিন্তু দেখা যায় আসামিপক্ষ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে বার বার সময় নেয়া হয়।
মামলার বাদীদের অসচেতনাকে সাক্ষী হাজির না হওয়ার অন্যতম কারণ বলে দাবি করছে পুলিশ।
সিআইডি প্রধান ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান বলেন, যারা একবার যেতে ব্যর্থ হয় তারা কিন্তু আবার চেষ্টা করে যাওয়ার জন্য। আর এসব মামলায় অনেকে সাক্ষী দিতে চায় না। কারণ যারা প্রতারিত হয় তারা আসলে জানেই না এসবের মূল হোতা কে?
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, এই আইনে সুযোগ না থাকলেও অনেক সময় দুই পক্ষ আপস করে ফেলে। তখন মামলা চালানো কঠিন হয়ে পড়ে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জননিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আবু বকর ছিদ্দীক বলেন, দালাল চক্র যেহেতু প্রভাবশালী থাকে তাই তারা কিছু টাকা পয়সা দিয়ে বাদীপক্ষদের সঙ্গে আপস করে ফেলে। তারা বলে যে কোর্টে গেলে তাদের আর কোন টাকা দেয়া হবে না। এসব সমস্যা যখন দেশের বাইরে হয় তখন তথ্য, সাক্ষী, প্রমাণ আনা খুব কঠিন হয়ে যায়। এ মামলাগুলো স্পেশাল ট্রাইব্যুনালে হয়, আর আদালতে এসব মামলা কম গুরুত্ব পায় বলেও আমাদের মনে হয়।
আইনে বিচারের জন্য আলাদা করে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিধান থাকলেও তা গঠনের প্রক্রিয়া আদেশে আটকে আছে। যা মামলা ঝুলে যাওয়ার একটি বড় কারণ। এই আইনের মামলা জামিনের অযোগ্য হলেও অভিযুক্ত অনেক ব্যক্তিই জামিনে রয়েছেন।
বার্তাবাজার/পি.এইচ