দেশের প্রথম রেডজোন ঘোষিত শহর কক্সবাজার

দেশ ব্যাপী সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে করোনার উৎপাত। সেই সাথে থেমে নেই মৃত্যুর মিছিল। দিন যতো গড়াচ্ছে কক্সবাজার জেলায় বাড়ছে সংক্রমনের হার। তাই কক্সবাজার পৌরসভাকে রেড জোনের আওতায় এনে শনিবার (৬জুন) মধ্যরাত থেকে কঠোর লকডাউনের ঘোষনা করেছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মো. কামাল হোসেন। আগামী ২০ জুন রাত ১১টা ৫৯মিনিট পর্যন্ত এই লকডাউন কার্যকর থাকবে।

জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন জানান, জেলায় করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৮৭২ জন (০৩ জুন পর্যন্ত, ০৪ ও ০৫ টেস্ট বন্ধ রয়েছে)। এরমধ্যে সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২৪০ জন। ১৮ জন মৃত্যুবরন করেছেন এবং ৬১৪ জনকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। জেলায় মোট ৩৫৬৬ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে এবং ৮৩৭ জনকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে আনা হয়েছে। ২৫১২ জন কে কোয়ারেন্টাইন হতে ছাড়পত্র দেয়া হয়। অপরদিকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৩৫ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছে। মৃত্যু বরণ করেছে ১জন।

জেলা প্রশাসক আরো জানান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটি ইতিমধ্যে জেলাকে ৩টি জোনে বিভক্ত করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এতে জেলার ৮টি উপজেলা ও ৪টি পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডের অতি সংক্রমিত এলাকা গুলোকে রেড জোন, সংক্রমিত এলাকাকে ইয়েলো জোন এবং যেখানে কোন সংক্রমণ হয়নি সেসব এলাকাকে গ্রীণ জোন হিসাবে চিহ্নিত করে সেসব এলাকায় কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করা হবে।

এছাড়াও প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে কমিটি থাকবে। পৌরসভার কাউন্সিলর ও ইউনিয়ন পযার্য়ে মেম্বাররা হবেন উক্ত কমিটির প্রধান। প্রত্যেক ওয়ার্ড থেকে যুবক ও ছাত্রদের নিয়ে একটি স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠন করা হবে। কমিটিকে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্টেট, সেনাবাহিনীর সদস্যবৃন্দ, পুলিশ প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ সার্বিক সহযোগিতা করবেন।

জেলা প্রশাসক ও জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. কামাল হোসেন কর্তৃক লকডাউন কঠোরভাবে বাস্তবায়নে বেশ কিছু নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

সকল প্রকার ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক গণজমায়েত নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হল। সকল জনসাধারণ আবশ্যিকভাবে নিজ নিজ আবাসস্থলে অবস্থান করবে।

সকল ব্যক্তিগত ও গণপরিবহণ বন্ধ থাকবে। নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য বহনকরী হালকা ও ভারী যানবাহন রাত ৮.০০ ঘটিকা থেকে সকাল ৮.০০ পর্যন্ত ঘটিকা পর্যন্ত চলাচল করতে পারবে। কোভিড ১৯ মোকাবেলায় দায়িত্বপ্রাপ্ত বেসরকারি গাড়ি চলাজচলে জেলা প্রশাসকের অনুমতি গ্রহণ করবে। এম্বুলেন্স, রোগী পরিবহন, স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী ব্যত্তিবগের্র (অনডিউটি) পরিবহন, কোভিড ১৯ মোকাবেলা ও জর“রী সেবা প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের গাড়ি এর আওতার বাইরে থাকবে।

সকল প্রকার দোকান, মার্কেট, বাজার, হাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। কেবলমাত্র রবিবার ও বৃহস্পতিবার কাঁচা বাজার ও মুদি দোকান স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে সকাল ০৮.০০ ঘটিকা থেকে বিকাল ০৪.০০ ঘটিকা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। ঔষধের দোকান এর আওতার বাইরে থাকবে।

কেবলমাত্র কোভিড ১৯ মোকাবেলা ও জরুরী সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান সীমিত আকারে খোলা থাকবে। কেবলমাত্র রবিবার ও বৃহস্পতিবার ব্যাংকসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ খোলা থাকবে। সকল হাসপাতাল, চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ও কোভিড ১৯ মোকাবেলায় পরিচালিত ব্যাংকিং সেবা প্রদান এর আওতার বাইরে থাকবে।

জরুরি সংবাদ সংগ্রহের জন্য নির্বাচিত সংবাদকর্মীদের রেড জোনে কাজ করার নিমিত্ত কক্সবাজার প্রেস ক্লাব কর্তৃক প্রদত্ত ছবিযুক্ত বিশেষ পরিচিতি পত্র দৃশ্যমান অবস্থায় গলায় ঝুলানো থাকা সাপেক্ষে এবং কোভিড ১৯ মোকাবেলায় রেড জোনে নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবীদের উপজেলা নির্বাহী অফিসার, কক্সবাজার সদর কর্তৃক প্রদত্ত ছবিযুক্ত বিশেষ পরিচিতি পত্র দৃশ্যমান অবস্থায় গলায় ঝুলানো থাকা সাপেক্ষে কাজ করার অনুমতি দেয়া হবে।

সকল প্রকার গণপরিবহন টার্মিনাল রেড জোনের বাইরে স্থানান্তর করতে হবে। প্রকাশ্য স্থানে বা গণজমায়েত করে কোন প্রকার ত্রাণ, খাদ্য সামগ্রী বা অন্য কোন পণ্য বিতরণ করা যাবে না।

বার্তাবাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর