মেহেরপুরের গাংনীতে ছেলের হাতে বাবা লাঞ্ছিত

মেহেরপুরের গাংনীতে ছেলেদের হাতে বাবা লাঞ্ছিত হয়েছে। এরকম ন্যাক্কার জনক ঘটনাটি ঘটেছে, উপজেলার কুলবাড়ীয়া গ্রামে। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে এমন অযুহাতে বাবাকে মারধর করে বাড়ী থেকে বিতাড়িত করেছে কুলাঙ্গার ছেলে সজল ও সাগর। এমনকি বাবার মাথা গোঁজার ঠাই সেই ছোট্ট কুঁড়ে ঘরটিও ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে। বিচারের দাবিতে বিতাড়িত বাবা সাইফুল ইসলাম (৪৮) দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোন কুল কিনারা পাচ্ছে না। সাইফুল ইসলাম কুলবাড়ীয়া গ্রামের মৃত সুলতান আলীর ছেলে।

ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, কুলবাড়ীয়া গ্রামের সাইফুল ইসলাম ১ম স্ত্রী ও ৩ ছেলে মেয়েকে রেখে দীর্ঘসময় ক্ষুদ্র ব্যবসার সুবাদে ঢাকাতে অবস্থান করে। এমনকি সেখানে তিনি ২য় বিয়ে করে বসবাস করে আসছেন। গ্রামের বাড়ীতে মাঝে মধ্যে আসলেও সে ১ম স্ত্রীর কোন খোজ খবর রাখে না। তারপরেও বাবা সন্তানের কল্যানে তাকে বিদেশে পাঠানোর সময় ২য় স্ত্রীর নিকট থেকে ১ লাখ টাকা দেয়।

সম্প্রতি প্রবাস ফেরত ছেলে সজল আলী (৩০) বাড়ীতে অবস্থান করছে। এই খবর পেয়ে বাবা টাকা ফেরত চাইতে সম্প্রতি ঢাকা থেকে বাড়ীতে আসে। ছেলে সজল ও সাগর টাকার কথা অস্বীকার করে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত বলে বাবাকে মারধর করে বাড়ী থেকে বিতাড়িত করে ।বাবা সাইফুল ইসলাম বর্তমানে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

১ম স্ত্রী রেহেনা খাতুন জানান, অনেক আগে আমার ছোট্ট ছেলেমেয়ের রেখে সে বাড়ী থেকে চলে গেছে। সে কোন দিন আমাদের কোন খোজ খবর নেয়না। কোন টাকা পয়সা দেয়না। ২য় বিয়ে করে সেখানেই সে থাকে। তবে আমার ছেলে বিদেশ যাওয়ার সময় ৭০ হাজার টাকা দিয়েছিল। আমার ছেলেরা তাকে মারধর বা বাড়ী থেকে তাড়িয়ে দেয়নি। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে ভেবে তাকে পরিবারের বাইরে থাকার জন্য বলা হয়েছিল।

আহত সাইফুল ইসলাম জানান, আমি টাকা ফেরত চাইতে বাড়ীত আসলে আমাকে মারধর করে তাড়িয়ে দিয়েছে। আমি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত নই। ইতোমধ্যই নমুনা পরীক্ষা করে নেগিটিভ হয়েছে।

গাংনী থানার অফিসার ইনচার্জ ওবাইদুর রহমান জানান, অভিযোগ পেলে ঘটনা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বার্তা বাজার/টি.সি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর