স্বামীর বিরুদ্ধে অমানসিক নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন এক নারী। এমনকি মাথা মুড়িয়ে বিবস্ত্র করে ভিডিও করারও অভিযোগ করেছেন তিনি। মাকে নির্যাতনের প্রতিবাদ করায় সন্তানকেও হত্যারও হুমকি দেয়ার কথা জানিয়েছে ছেলে। এমন ঘটনা ঘটেছে ঢাকার দিক্ষণ কেরানীগঞ্জ থানায়।
এ ঘটনায় থানায় মামলা হলেও গ্রেফতারের তিন দিনের মাথায় জালিয়াতি করে জামিন পান অভিযুক্ত স্বামী।
আইনজীবীদের অভিযোগ, আসামিকে সুবিধা দিতেই এফআইআর দুর্বল করেছে থানা পুলিশ।
স্বামীর হাতে দিনের পর দিনই অমানসিক নির্যাতনের স্বীকার হয়েছেন এ নারী। বিবস্ত্র করে রাখা হয়েছে, কেটে নেয়া হয়েছে চুল। প্রতিবাদ করলে ছেলেকে হত্যার হুমকিও দেয়া হয়েছে। তার ছেলেও বললেন, জন্মের পর থেকে মাকে নির্যাতন সহ্য করে আসতে দেখেছেন তিনি।
তিনি বলেন, আমি ছোটবেলা থেকে দেখছি মাকে নির্যাতন করে আসছে। আমি দেখেছি মায়ের নখ টেনে তুলে ফেলতে।
এক প্রতিবেশী বলেন, কখনো তার গোপন অঙ্গে আঘাত করতো। এটি আমার স্ত্রীকে ওই নারী জানিয়েছিলেন।
পরিবারের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নির্যাতিতা নারীকে উদ্ধার করে দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানা পুলিশ। আসামি গ্রেফতার হলেও তিন দিনে জামিনে বের হয়ে যান।
বৃহস্পতিবার স্বামী র্যাব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে লাথি মারার অভিযোগ করেছেন ওই নারী। প্রতিবাদ করায় হত্যার হুমকিও দেয়া হয় বলে দাবি তার।
এ রকম বহু নির্যাতনের গল্প লুকিয়ে আছে সমাজে। মানবাধিকার কর্মীরা মনে করেন, বিচার না হওয়া এবং সমঝোতায় মীমাংসা করার প্রবণতার কারণে বাড়ছে পারিবারিক অপরাধ।
নির্যাতিতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট কাজী রেজাউল হক বলেন, যদি নারী নির্যাতনের আইনে মামলা করতো তাহলে ন্যয় বিচার পেত। কিন্তু এ ধারায় মামলা না করায় জামিন নিয়ে গেছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, এফআইআর আমি করিনি। এফআইআর করে ওসি সাহেব।
নির্যাতিতা নারীর ছেলে বলেন, মাথায় পিস্তল ধরে বলছে তুই যদি চলে না যাস তাহলে গুলি করে দেব।
বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থার তথ্যমতে, জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ৫৮ জন হত্যার স্বীকার হয়েছেন। নির্যাতনের স্বীকার হয়েছে দেড়শতাধিক।
সময় টিভি
বার্তাবাজার/পি.এইচ