পপগুরু আজম খান: চলে যাওয়ার ৯ বছর

বীর মুক্তিযোদ্ধা আজম খান। যাকে শুরু থেকে এখনও সর্বস্তরের সংগীতমুখো মানুষ বিনম্রচিত্তে ‘পপগুরু’ বলে মানেন, ‘পপসম্রাট’ বলে দাবি করেন। আজ (৫ জুন) সেই আকাশছুঁই জনপ্রিয়তা পাওয়া নির্লোভ মানুষটি চলে যাওয়ার ৯ বছর।

রাজধানীর আজিমপুর সরকারি কলোনিতে ১৯৫০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি জন্ম আজম খানের। তার পুরো নাম মাহবুবুল হক খান।

১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময়ে আজম খান পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। তখন ক্রান্তি শিল্পীগোষ্ঠীর সক্রিয় সদস্য ছিলেন এবং পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর শোষণের বিরুদ্ধে গণসংগীত প্রচার করেন। ১৯৭১ সালে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। কুমিল্লার সালদায় প্রথম সরাসরি যুদ্ধ করেন। আজম খান ছিলেন দুই নম্বর সেক্টরের একটি সেকশনের ইনচার্জ। সেকশন কমান্ডার হিসেবে ঢাকা ও এর আশপাশে বেশ কয়েকটি গেরিলা আক্রমণে অংশ নেন।

মুক্তিযুদ্ধের পর তার ব্যান্ড ‘উচ্চারণ’ দেশব্যাপী আলোড়ন তৈরি করে। ১৯৭২ সালে বন্ধু নিলু আর মনসুরকে গিটারে, সাদেককে ড্রামে আর নিজেকে প্রধান ভোকাল করে অনুষ্ঠান শুরু করেন। ওই বছরই তার ‘এত সুন্দর দুনিয়ায় কিছুই রবে না রে’ ও ‘চার কালেমা সাক্ষী দেবে’ গান দুটি বিটিভিতে প্রচারের ব্যাপক প্রশংসিত হয়। পরবর্তী সময়ে বিটিভিতে ‘রেললাইনের ওই বস্তিতে’ গান গেয়ে হইচই ফেলে দেন।

আজম খানের অন্যান্য জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে- আমি যারে চাইরে, ওরে সালেকা ওরে মালেকা, আলাল ও দুলাল, একসিডেন্ট, অনামিকা, অভিমানী, আসি আসি বলে, হাইকোর্টের মাজারে, পাপড়ি, বাধা দিও না, যে মেয়ে চোখে দেখে না ইত্যাদি।

১৯৮২ সালে ‌‘এক যুগ’ নামে তার প্রথম ক্যাসেট বের হয়। এরপর আরও কিছু একক ও মিশ্র অ্যালবামে কণ্ঠ দেন। আজম খানের প্রথম সিডি বের হয় ১৯৯৯ সালের ৩ মে ডিস্কো রেকর্ডিংয়ের প্রযোজনায়।

২০০৩ সালে ক্রাউন এনার্জি ড্রিংকসের বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রথম মডেল হন। পরবর্তী সময়ে বেশ কিছু বিজ্ঞাপনে দেখা যায় তাকে। সর্বশেষ ২০১০ সালে কোবরা ড্রিংকসের বিজ্ঞাপনেও মডেল হন এই কিংবদন্তি।

বার্তাবাজার/কে.জে.পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর