মৌলভীবাজারের বড়লেখায় কৃষকের ধান বিক্রির ৫২ হাজার টাকা আত্মসাত করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ৩ আওয়ামী লীগ নেতার নামে। সরকার দলীয় এই নেতারা গত আমন মৌসুমেও বিভিন্ন কৌশলে সরকারী গুদামে ধান সরবরাহ করায় অনেক কৃষক ন্যায্য দামে ধান বিক্রি করতে পারেনি। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ২ কৃষক গত ৩১ মে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযুক্ত ৩ আওয়ামী লীগ নেতা হলেন, দাসেরবাজার ইউপি আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী স্বপন চত্রবর্তী, উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা সুনাম উদ্দিন ও ইউপি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি আবু বক্কর।
জানা যায়, উপজেলার দাসেরবাজার ইউপির উত্তর বাগিরপার গ্রামের কৃষক কৃপাময় দেবনাথ ও দিপন দেবনাথের আমন ধান বিক্রি করে দেয়ার কথা বলে গত ২৫ জানুয়ারী তাদের কৃষি কার্ড সংগ্রহ করেন দাসেরবাজার ইউপি আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী স্বপন চক্রবর্তী, ৪নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু বক্কর ও উপজেলা আওয়মী লীগ নেতা সুনাম উদ্দিন।
স্বপন চক্রবর্তীর সিন্ডিকেট এ দুই কৃষকের ২ টন আমন ধান সংগ্রহ করে খাদ্যগুদামে পাঠিয়ে বিভিন্ন কাগজে তাদের স্বাক্ষর রেখে টাকা উত্তোলনের পর দেয়া হবে জানিয়ে বিদায় করেন।
ভুক্তভোগী কৃষক কৃপাময় দেবনাথ ও দিপন দেবনাথ জানান, ২৭ জানুয়ারী স্বপন চক্রবর্তী, সুনাম উদ্দিন ও আবু বক্কর তাদেরকে খাদ্য গুদামে নিয়ে ধান বিক্রির বিভিন্ন কাগজে সই রেখে টাকা পরে পাওয়া যাবে জানিয়ে ফিরিয়ে দেন। ধান বিক্রির টাকার তাগদা করলে গুদাম থেকে পাননি বলে জানান। এরপর তাগদা করলে তারা ১ টন ধানের দাম ১৫-১৬ হাজার টাকা নিতে বলেন। পরবর্তীতে তাগদা করলে হুমকি ধমকি দিতে থাকেন।
ইউপি আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী স্বপন চক্রবর্তী জানান, কৃষকের নিকট থেকে আবু বক্কর ও সুমাম উদ্দিন ধান ক্রয় করেছে। তিনি মধ্যস্থতা করেন মাত্র। তাদের ধান বাহিরে কম দামে বিক্রির জন্য আবু বক্কর ও সুনাম উদ্দিন কম টাকা দিতে চাইছে। কিন্ত তারা কম টাকা নিতে নারাজ। বিষয়টি মিটমাটের চেষ্টা চলছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শামীম আল ইমরান ধান বিক্রির টাকা আত্মসাতের লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, তদন্ত সাপেক্ষে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বার্তাবাজার/এসজে