ঢাকার সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং সাভার উপজেলা করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সচিব ডা. মোহাম্মদ সায়েমুল হুদা দূর্যোগ মোকাবেলায় গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে তাঁর ব্যক্তিগত মতামত তুলে ধরেছেন। এব্যাপারে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তাঁর এসংক্রান্ত সময়োপযোগী লেখাটি বার্তা বাজারের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলোঃ
‘যে কোন দূর্যোগের সময় গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে এবং কভিভ -১৯ প্রতিরোধে এখনও পালন করে যাচ্ছেন। অনেকে আমরা গণমাধ্যমের মাধ্যমে যখন টিভি চ্যানেলের নিচে স্ক্রল দেখতে পাই, খুন, ধর্ষণ, মৃত্যু ইত্যাদি যা ঘটে, গণমাধ্যমের মাধ্যমে তাই আমরা জানতে পারি।
বর্তমান সময়ে আমরা যারা সারাক্ষণ বাসায় টেলিভিশনের সামনে বসে থাকি আর গুনতে থাকি আজ কতজনের মৃত্যু হল, কতজন আক্রান্ত, সারাদিন দেখতে দেখতে মানসিকভাবে অনেকেই আমরা অর্ধমৃত হয়ে যাচ্ছি। মনের ভিতরের শক্তি তিলে তিলে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
তাহলে কি টেলিভিশন দেখব না?
অবশ্যই দেখবেন, যে সকল চ্যানেলে আশা জাগাবে, আপনার মনোবল চাঙ্গা করবে, ওগুলো দেখবেন। আমরা জানি এখন পর্যন্ত পৃথিবীতে করোনা’র সুনির্দিষ্ট ভ্যাকসিন আবিস্কার হয়নি। তাহলে ফেইসবুকে যখন যে ঔষধের নাম দেখি, হিড়িক পরে যায় ওই সকল ঔষধ কিনে জমা করার। কি দরকার?
ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ বাড়ায়, খেতে পারেন। ভিটামিন ডি খেতে পারেন কিন্ত এটা কখনো ভাবা যাবে না যে ভিটামিন কভিড -১৯ ভাইরাস প্রতিরোধের ওষধ।
আমি মনে করি, মন ভালো থাকলে মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে; কারন খাবার খেতে ইচ্ছে করবে এবং মনে আনন্দের হরমোন তৈরি হবে। নেগেটিভ দেখতে দেখতে আমরা ও আমাদের সন্তানদের একদিন মানষিক রুগীতে পরিণত হতে সময় খুব বাকি নেই। তাই গণমাধ্যমের সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিনয়ের সহিত অনুরোধ করব, আপনাদের স্বাভাবিক সকল কর্মকান্ডের পাশাপাশি দেশের সকল এলাকায় পজিটিভ কাজের, পজিটিভ মানুষের কাজ দেশব্যাপী তুলে ধরবার জন্য। ফলে দেখবেন, টেলিভিশন দেখতে দেখতে অনেকেই সুস্থ হয়ে যাবেন এবং হয়ত কোন ঔষধের প্রয়োজন হবে না। গণমাধ্যম হবে ভয়ের নয় জয়ের, এ আমার প্রত্যাশা।’
লেখকঃ ডা. মোহাম্মদ সায়েমুল হুদা
সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা
এবং
সদস্য সচিব, সাভার উপজেলা করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ কমিটি
কে.এ.স/বার্তাবাজার