আশুলিয়ার ইসলামনগরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পন্ড হলো সভা!

সারাদেশে যখন করোনার বিরুদ্ধে চলছে যুদ্ধ, যেকোনো ধরণের সভা-সমাবেশের বিরুদ্ধে সরকারের রয়েছে নিষেধাজ্ঞা; এমন অবস্থায় ঢাকার সাভারের আশুলিয়ার ইসলামনগর এলাকায় কয়েকশো’ মানুষ উন্নয়ন কমিটির আহ্বানে মিলিত হয়েছিলো এক সভায়।

শেষে আশুলিয়া থানা পুলিশের তড়িৎ হস্তক্ষেপে পন্ড হয় ওই সভা। মঙ্গলবার (২ জুন) বিকালে খবর পেয়ে আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক জসীম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে উক্ত সভা পন্ড করে সরকারি নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখেন।

ছবি:বার্তাবাজার।

এব্যাপারে মুঠোফোনে আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক জসীম জানান, এলাকাবাসীর থেকে খবর পেয়ে আশুলিয়া থানাধীন ইসলামনগর এলাকায় গিয়ে দেখতে পাই কয়েকশো’ নারীপুরুষ একত্রিত হয়ে সভায় মিলিত হয়েছে। সেখানে চেয়ার টেবিল নিয়ে সভায় আগত সকলে আলোচনা করছিলো দেখতে পেয়ে করোনা পরিস্থিতিতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অনুসারে তাদেরকে হটিয়ে দেই।

সভায় আগত অনেকেরই স্বাস্থ্য সুরক্ষা সরঞ্জামাদি যেমন মাস্ক পরিধান করা ছিলো না এবং নির্দিষ্ট সামাজিক দূরত্বও তারা বজায় রাখেনি। এজন্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ করেই এই সভা অনুষ্ঠানে বাঁধা প্রদান করেছি।

এব্যাপারে জানতে চেয়ে ইসলামনগর উন্নয়ন কমিটির সভাপতি মোঃ শফির মুঠোফোনে কয়েকবার কল করা হলেও তিনি কল রিসিভ না করায় কেন ওই সভা আহবান করেছিলেন তারা সে বিষয়ে জানা যায়নি।

তবে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক ইসলামনগরের কয়েকজন জানান যে মসজিদের মাইকে মাইকিং করেই এই সভা আহবান করা হয়েছে এবং এলাকার প্রায় কয়েকশো’ মানুষ নির্দিষ্ট সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখেই এই করোনা পরিস্থিতির ভিতরে একত্রীত হয়েছেন।

প্রসঙ্গত, গত দুই মাস আগে ইসলামনগর বাজারের ভিতর দিয়ে চলে যাওয়া জেলা পরিষদের অর্থায়নে ৬৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত পিচের সড়ক কেটে ফেলে রেখেছিলো ইসলামনগর উন্নয়ন কমিটি। তবে তারা জানিয়েছিলো জলাবদ্ধতা নিরসনে পানির পাইপ বসানোর জন্যই এই পিচের রাস্তা কেটেছিলেন তারা।

কিন্তু সরকারি অর্থায়নে নির্মিত রাস্তা কাটার অনুমতি তারা সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের থেকে নেন নাই এটাও এই প্রতিবেদককে কয়েকদিন পূর্বে জানিয়েছিলেন উন্নয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক। এছাড়া তখন সাভার উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী সালেহ হাসান প্রামাণিকের কাছেও এই রাস্তা কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে তাদের কাছে এসংক্রান্ত কোনো ধরণের অনুমতি কেউ চায়নি বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।

ছবি:বার্তাবাজার।

প্রসঙ্গত আরও উল্লেখ্য, নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক আরেকজন স্থানীয় জানান, এভাবে জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা কেটে ফেলে রাখায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি দেখে এগিয়ে আসে আশুলিয়া থানা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সহ সচেতন এলাকাবাসী।

তারা নিজেদের উদ্যোগে ওই রাস্তা মাটি ফেলে চলাচল উপযোগী করে। পরে এ বিষয় নিয়েই উন্নয়ন কমিটির সাথে রাস্তা ঠিক করে দেয়া গ্রুপের সাথে মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয় এবং তারই ধারাবাহিকতায় উন্নয়ন কমিটি মসজিদের মাইকে মাইকিং করে আজকের এই প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে।

তবে সরকারি বিধি অমান্য করে এভাবে করোনার ভিতরে সভার আয়োজন করায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

বার্তাবাজার/কে.এ.স

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর