জনপ্রতিনিধিদের কল লিষ্ট তুলে দেয়ার অভিযোগ ওসির বিরুদ্ধে

অর্থের বিনিময়ে নির্বাচিত ৪ জন চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত ফোন কল লিষ্ট তুলে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে আমিনপুর থানার থানার ওসির বিরুদ্ধে। পাবনায় বেড়া উপজেলার আমিনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মঈনুদ্দিনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী ৪ চেয়ারম্যান। এ ঘটনায় ওই সকল এলাকাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

আইন অমান্য করে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার কাজে আমিনপুর থানার ওসি ৪ জন বর্তমান চেয়ারম্যানের বিগত তিন মাসের ফোনকল লিষ্ট ও কল রেকর্ড মোবাইল ফোন কোম্পানির কাছ থেকে উত্তোলন করেছেন বলে জানা গেছে।

অভিযোগকারী ৪ চেয়ারম্যান হলেন পুরান ভারেঙ্গা ইউনিয়নের এম এ রফিকুল্লাহ, জাতসাখিণী ইউনিয়নের মোঃ রেজাউল হক মিয়া, রুপপুর ইউনিয়নের মোঃ আবুল হাশেম উজ্জ্বল ও মুসুনদিয়া ইউনিয়নের মিরোজ হোসেন। মঙ্গলবার সকালে পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে পুলিশের আইজি ও ডি আইজি বরাবর তারা লিখিত ভাবে বিষটি অবহিত করেছেন বলে জানা গেছে।

এই ঘটনার ভুক্তভোগী জনপ্রতিনিধিরা জানান, আমাদের প্রত্যেকের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনের কল লিষ্টের গত মাসের (২৯ মে) আমিনপুর থানার ওসি বে-আইনিভাবে ফোন কোম্পানির কাছে থেকে সংগ্রহ করেছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। কোন মামলা সংক্রান্ত বা অপরাধী সনাক্ত করা কাজে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সদস্যরা সেটি উত্তোলন করতে পারেন। কারো ব্যক্তি স্বার্থ রক্ষার জন্য অর্থের বিনিময়ে ওই ওসি এই কাজ করেছেন বলে অভিযোগ করেন তরা। এই ধরনরে ঘটনা সারা বাংলাদেশে প্রথম ঘটলো।

আমরা শুধু জনপ্রতিনিধিনা প্রত্যেকে স্ব-স্ব ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি ও সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছি। এই ঘটনার সাথে পাবনা বেড়া উপজেলার পৌর মেয়র সদ্য চাল চোরের পক্ষ নেয়ায় দল থেকে অব্যহতি প্রাপ্ত উপজেলা আ.লীগের সভাপতি আব্দুল বাতেন ও সুজানগর-২ আসনের সংসদসস্যের গোপন সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে অভিযোগ করেন চেয়ারম্যানরা।

তারা আরও বলেন, ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে সংশ্লিষ্ট থানা থেকে প্রত্যাহারসহ বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি আমরা। এর পরবর্তীতে দলীয় ভাবে আমরা তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানান।

এই বিষয়ে পাবনা আমিনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মঈনুদ্দিন বলেন, এই ধরনের কোন ঘটনার সাথে আমার কোন সম্পৃক্ততা নাই। এসপি অফিসের মাধ্যমে এই ফোন কলের তথ্য পাওয়া যায়। আমি এই ধরনের কোন কাজ করিনি।।

পাবনা জেলা পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনা তদন্তের জন্য পাবনা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গৌম কুমার বিশ্বাসকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী সাত কার্য দিবসের মধ্যে এই ঘটনার প্রকৃত তথ্য ও প্রতিবেদ জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত শেষে দোষী প্রমানিত হলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে পাবনা সুজানগর-২ আসনের সংসদ সদস্য আহম্মেদ ফিরোজ কবির বলেন, এই কথাটি তাদের মনগড়া। ফোন কল লিষ্ট দিয়ে আমি কি করবো। এই তথ্যটি সত্য নয়। এই ঘটনার সাথে আমার সম্পৃক্ততার কথাই আসেনা।

জেলা আ.লীগের সাধারন সম্পাদক পাবনা সদর-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্স বলেন, এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানরা আমাদের কাছে লিখিতভাবে না জানালেও মৌখিকভাবে বলেছেন। বিষয়টি যেহেতু প্রশাসনিক তাই পুলিশ সুপারকে দেখার জন্য বলা হয়েছে। যেহেতু অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত নাম যাদের শোনা যাচ্ছে তারা সকলেই আমাদের দলীয় নেতাকর্মী। লিখিত অভিযোগ পেলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে দলীয় সিন্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

বার্তা বাজার / ডি.এস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর