একেই বলে মানবিক সহায়তা! করোনা ভাইরাস এর প্রভাবে কর্মহীণ অসহায় দরিদ্র আড়াই হাজার পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন দেশের বিশিষ্ট কবি গবেষক প্রাবন্ধিক মজিদ মাহমুদ। কোন প্রচার না চালিয়ে নিরবে এই খাদ্য সহায়তা দিয়ে তিনি নজির সৃষ্টি করেছেন।
খাদ্য সহায়তা বিতরণের কোন ছবি তোলা হয়নি এমনকি কোন সংবাদ বিজ্ঞপ্তিও দেয়া হয়নি। কবি মজিদ মাহমুদ বেসরকারি সংগঠন ওসাকার নির্বাহী পরিচারক। এই সংগঠনের উদ্যোগেই পাবনার জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ১ হাজার ২ শ’ এবং সংগঠনটির কর্মীদের মাধ্যমে আরো ১ হাজার ৩ শ’ পরিবারের মধ্যে ২০ লক্ষ টাকার এই খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়।
এ প্রসঙ্গে কবি মজিদ মাহমুদ জানান, সংকট মোকাবেলায় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোটাই জরুরী। এক্ষত্রে প্রচার করাটা মুখ্য নয় এবং তাতে লাভই বা কি। এজন্য নীতিগতভাবে এই খাদ্য সহায়তার গতানুগতিক কোন প্রচার আমরা করতে চাইনি।
সংকটকালে অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টিকেই গুরুত্ব দিয়েছি। প্রসঙ্গত: কবি মজিদ মাহমুদ বাংলা সাহিত্যে যেমন অবদান রেখেছেন, তেমনি অসামান্য অবদান রেখেছেন সামাজিক নানা কল্যাণমূলক কর্মকান্ডে। দীর্ঘ দিন দৈনিক বাংলা ও বাসস এ সহকারি সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতাও করেছেন। এখন নিজেকে উৎসর্গ করেছেন সমাজসেবায়।
সমমনা বন্ধুদের উৎসাহ নিয়ে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার নিভৃত চরগড়গড়িতে নিজের পৈত্রিক ভিটায় গড়ে তুলেছেন ওসাকা কমপ্লেক্স এবং সেখানেই সাংস্কৃতিক লালনকেন্দ্র চরনিকেতন কাব্য ম প্রতিষ্ঠা করেন। সমাজের অসহায় হতদরিদ্র মানুষের কথা ভেবে নিজ এলাকায় গড়ে তুলেছেন একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে জাগ্রত করতে প্রতিষ্ঠা করেছেন মুক্তিযুদ্ধ কর্ণার ও পাঠাগার।
গরিব ও অসহায় পরিবারের ছেলেমেয়েদের বার্ষিক বৃত্তি প্রদান করে তাদের পড়াশোনার পথকে সুগম করেছেন। বষষ্ক অসহায় মানুষের পুনর্বাসনের জন্য বৃদ্ধ নিবাস, এলাকায় প্রবীনদের জন্য বৃদ্ধভাতা, ঝড়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সহায়তা, এলাকায় বিনামূল্যে স্বাস্থ্য সেবা প্রদানসহ ধারাবাকিভাবে সমাজসেবমূলক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। নিয়মিত ৩ শতাধিক কর্মী ছাড়াও পরোক্ষভাবে ৬০ হাজার পরিবার ওসাকার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করছে। কবি মজিদ মাহমুদ জানান, প্রতি বছর চরনিকেতন কাব্য ম কে ঘিরে ৩ দিন ব্যাপি বৈশাখী উৎসব করা হয়। এতে দেশ বিদেশ থেকে কবি সাহিত্যিক সাংস্কৃতিক কর্মীরা অংশ নেন।
এবারে ওই কর্মসুচি বাতিল করে সে অর্থ দরিদ্র মানুষের মধ্যে বিতরন করা হয়। এদিকে কবি মজিদ মাহমুদের এই প্রচারহীণ খাদ্য সহায়তার উদ্যোগকে অনেকেই সাধুবাদ জানিয়েছেন। জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও পাবনা প্রেস ক্লাবের সাবেক সাবেক সভাপতি বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর শিবজিত নাগ বলেন, মানবিক সহায়তা এমনি হওয়া উচিত।
অনেকেই অন্যকে সহায়তার নামে নিজেদের প্রচারকেই গুরুত্ব দেন। কিন্ত কবি মজিদ মাহমুদ নিরবেই যে মহতি কাজ করে যাচ্ছেন তা অনেকের জন্য অনুকরণীয় হতে পারে।
বার্তাবাজার/কে.এ.স