পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় করোনা পরিক্ষার জন্য নমুনা দিয়েই এক করোনা রোগী লাপাত্তা। পরে তার করোনা পজেটিভ রিপোর্ট আসার খবর শুনেন ঢাকায়। তিনি একজন গার্মেন্টস কর্মী। ঢাকা ফেরত ওই ব্যাক্তি ঈদের আগে তেঁতুলিয়া উপজেলার শালবাহান ইউনিয়নে নিজ বাড়িতে আসে। সে বাড়িতে আসার পরেই স্থানীয় প্রশাসন তার বাড়ি লকডাউন করে দেয়। পরে বৃহস্পতিবার (২৮শে মে) তার ও ওই পরিবারের সদস্যদের নমুনা সংগ্রহ করে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পিসিআর ল্যাবে প্রেরণ করে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। রবিবার ( ৩১শে মে ) রাতে তার রিপোর্ট পজেটিভ এবং পরিবারের বাকী সদস্যদের নেগেটিভ আসে। করোনা পজেটিভ খবর আসার আগেই সে বাড়ি থেকে পালিয়ে গা ঢাকা দিয়েছেন। রোববার রাতে স্থানীয় প্রশাসন তাকে খুঁজতে গিয়ে দেখে তিনি বাড়িতে নেই। পরিবারের লোকজনও বলতে পারেনি তিনি কোথায়। এরপরই তার খোঁজ শুরু হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঢাকায় আছেন এবং তার অবস্থান সম্পর্কে আইইডিসিআরের হটলাইনে ফোন করে জানিয়েছেন বলে পুলিশকে জানান ।
তেঁতুলিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জহুরুল ইসলাম এবং তেঁতুলিয়া উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ আবুল কাশেম এর সত্যতা স্বীকার করেছেন।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সুত্র জানায়, দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পিসিআর ল্যাবে প্রেরীত ১৩১৪ জনের নমূনার মধ্যে সোমবার রাত পর্যন্ত ১২২৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এতে ৮০ জনের করোনা শনাক্ত হন । এরমধ্যে বোদা উপজেলায় ১ জন এবং দেবীগঞ্জ উপজেলায় ১ জন করোনা রোগী মারা যান। এখন পর্যন্ত রিপোর্ট পাওয়া যায়নি ৯১টির।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে আরো জানা যায়, সদর উপজেলায় ২১ জন, বোদা উপজেলায় ৭ জন, দেবীগঞ্জ উপজেলায় ৩৬ জন, তেঁতুলিয়া উপজেলায় ৯ জন এবং আটোয়ারী উপজেলায় ৭ জন করোনা রোগী সনাক্ত হলো।
এদিকে, পঞ্চগড় পুলিশ লাইনসে কর্মরত পুলিশের এক এএসআই ও জেলা কারাগারের এক বন্দীকে করোনাভাইরাস সংক্রমণমুক্ত ঘোষণা করেছে জেলা স্বাস্থ বিভাগ। এদের নিয়ে জেলায় করোনাভাইরাস সংক্রমণমুক্ত হলো ১৪ জন।
পঞ্চগড় সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ ফজলুর রহমান নমুনা দিয়ে আক্রান্ত রোগীর পালানোর বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সে বর্তমানে ঢাকায় আছে। আমরা তার সাথে যোগাযোগ করে তাকে চিকিৎসা সহ বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।
বার্তা বাজার/টি.সি