বগুড়ায় ছাত্রী নিবাস থেকে অবরুদ্ধ ১৩ ছাত্রীকে উদ্ধার

ভাড়ার দাবিতে বগুড়ায় আটকে রাখা ১৩ ছাত্রীকে উদ্ধার করা হযেছে। বগুড়া শহরের কামারগাড়ি এলাকায় মুন্নুজান ছাত্রী নিবাসের ওই ছাত্রীদের অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ পেয়ে পুলিশ বেগম ও গণমাধ্যমকর্মীরা তাদের উদ্ধার করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। পরে ছাত্রীরা নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যান।

জানা যায়, শহরের কামারগাড়ি এলাকার ওই ছাত্রী নিবাসে সরকারি আজিজুল হক কলেজসহ আশপাশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রী ও কর্মজীবী তিন শতাধিক নারী থাকেন। ছাত্রী নিবাসের পাশে ডোবা থাকায় এখানে সাপের উপদ্রব রয়েছে। এছাড়া মাঝে মাঝে ছাত্রীদের মালামাল চুরি হয়ে যায়। হোস্টেল সুপারের দাবি করা এপ্রিল থেকে তিন মাসের ভাড়া দিতে না পারায় ১৩ জন ছাত্রীকে অবরুদ্ধ করা হয়। পরে মালিক আবদুল্লাহের কাফীর সঙ্গে কথা বললে তিনি দুই মাসের ভাড়া নিয়ে ছাত্রীদের ছেড়ে দিতে বলেন। আর্থিক সমস্যার কারণে ছাত্রীরা ভাড়া দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।

সরকারি আজিজুল হক কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান শেষ বর্ষের ছাত্রী বগুড়ার শিবগঞ্জের মোছা. রুমা জানান, সোমবার ১৩ জন ছাত্রী আসেন। তিনি তার রুমে গিয়ে দেখেন, সমস্ত জিনিসপত্র তছনছ করা। তার জামা কাপড়সহ মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি গেছে। আশপাশের অন্য ছাত্রীদের রুমেও চুরি হয়। এ অবস্থায় তারা বাড়ি ফিরে যেতে চাইলে হোস্টেল সুপার তিন মাসের ভাড়া পরিশোধ করেই যেতে বলেন।

এইচএসসি পরীক্ষার্থী সিরাজগঞ্জের দ্বীপান্বিতা জানান, করোনা সংক্রমণ শুরু হলে তিনি বাড়িতে চলে যান। তিনি বইপত্র নিতে সোমবার আসেন। কিন্তু তিন মাসের ভাড়া না দিলে তাকে বের হতে বাধা দেয়া হয়।

সরকারি আজিজুল হক কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞানের মাস্টার্স শেষ পর্বের ছাত্রী সিরাজগঞ্জের রিফাত জাহান জানান, তিন মাসের ভাড়া দিতে না পারায় হোস্টেল সুপার তাকে বের হতে বাধা দেন। তিনি তার ভ্যানিটি ব্যাগ তল্লাশি করেছেন।

এক ছাত্রীর অভিভাবক আদমদীঘির রোজিনা বেগম জানান, মেয়ে ব্যাগ নিয়ে বের হলে এখান থেকে যেতে দিচ্ছে না। তিনি দাবি করেন, কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতি ছাত্রীর এক মাসের অগ্রিম ভাড়া জমা রয়েছে। এরপরও অসৌজন্য আচরণ করা হচ্ছে।

ছাত্রীদের অবরুদধ রাখার খবর পেয়ে গণমাধ্যম কর্মীরা ও স্টেডিয়াম পুলিশ ফাঁড়ির এসআই জাহাঙ্গীর আলম ঘটনাস্থলে আসেন। পুলিশ কর্মকর্তা জানান, মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা বলে ছাত্রীদের বাড়ি ফিরে যাবার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যার কাছে টাকা আছে তিনি দিবেন; আর যার নেই তিনি পরে এসে দিবেন। ছাত্রীরা তাদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে ফিরে গেছেন। পরবর্তীতে ছাত্রীদের সঙ্গে এমন আচরণ করা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মুন্নুজান ছাত্রী নিবাসের সুপার হাফিজা বেগম ছাত্রীদের সাথে অসৌজন্য আচরণের অভিযোগ নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, এপ্রিল থেকে তিন মাসের ছাড়া চাওয়া হয়েছে। কিন্তু ছাত্রীরা দিতে রাজি হয়নি। পরে মালিক দুই মাসের ভাড়া নিয়ে ছাত্রীদের ছেড়ে দিতে নির্দেশ দেন। তাই ছাত্রীদের কাছে ভাড়া চাওয়া হয়েছিল। কারো সঙ্গে অসৌজন্য আচরণ করা হয়নি। তিনি ছাত্রী নিবাসে সাপ থাকার কথা স্বীকার করলেও চুরির কথা অস্বীকার করেন।

বার্তা বাজার / ডি.এস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর