প্রায় ২ মাস পর সাধারণ সরকারি ছুটি শেষ হয়েছে গতকাল ৩১ শে মে। সাধারণ ছুটি শেষ হবার পর খুলেছে অফিস-আদালত,সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও গনপরিবহন গুলো । সরকারি নির্দেশনায় দীর্ঘদিন ধর্মীয় উপাসনালয়গুলো বন্ধ থাকলেও গতকাল থেকে খুলেছে সেইসব ধর্মীয় উপাসনালয় গুলো। গতকাল(৩১ মে) কুড়িগ্রাম জেলা সদরের কয়েকটি মসজিদ গুলো ঘুরে দেখা যায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে মসজিদ গুলো মুসুল্লিরা নামায আদায় করছেন। মসজিদে প্রবেশের পূর্বে ওযুখানায় নিজেদের হাত-পা সাবান দিয়ে পরিস্কার করে নিয়ে মাস্ক পরেই নামায পড়ছেন ধর্মপ্রান মুসুল্লিরা।
স্বাস্থ্যবিধি মেনে কুড়িগ্রামের মসজিদগুলো সর্বসাধারণের জন্য চালু হলেও,,এখনো চালু হয়নি কুড়িগ্রামের মন্দিরগুলো। রবিবার (৩১ মে) কুড়িগ্রাম জেলা শহরের কয়েকটি মন্দির ঘুরে দেখা যায় এমন চিত্র। কুড়িগ্রাম কেন্দ্রীয় রাধা গোবিন্দ মন্দির ,কুড়িগ্রাম পৌর শশ্মানঘাট,স কুড়িগ্রাম ইসকন মন্দিরসহ যেসব মন্দিরের সাপ্তাহিকভাবে ও প্রতিদিন গীতা সংঘ ও কীর্তন হতো সেইসব অঘোষিত লকডাউনের কারণে আজ প্রায় ২ মাস থেকে বন্ধ রয়েছে। তবে এসব মন্দিরে দর্শনার্থী ও ভক্তদের আনা-গোনা নিষেধ থাকলেও পুরোহিতরা নিয়মিত পুজো দিচ্ছেন মন্দিরে।
কুড়িগ্রাম কেন্দ্রীয় রাধা-গোবিন্দ মন্দিরের প্রধান গীতা পাঠক শ্রী নারায়ন চন্দ্র সেন বলেন, “আমাদের মন্দিরে সপ্তাহে ৪ দিন গীতা সংঘ ও কীর্তন হয়, গত ২ মাস যাবৎ এসব বন্ধ রয়েছে,সরকারি ছুটি শেষ হয়েছে ঠিকি,আমরা আর কয়েকটা দিন দেখে ,সামাজিক নিরাপত্তা মেনে পুনরায় গীতা সংঘ চালু করবো।”
কুড়িগ্রাম ইসকন মন্দিরের প্রধান পুরোহিত ও অধ্যক্ষ শ্রীমান তপগৌর কৃষ্ণ দাস বলেন,”আমাদের মন্দিরের নিত্য পুজো চালু থাকলেও ,বন্ধ রয়েছে আমাদের প্রতিদিনের অনুষ্ঠানগুলো ও সর্ব সাধারণের মন্দিরে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞাও । সরকারি ছুটি শেষ হয়েছে,তবে আমরা এখনি মন্দির সকলের জন্য খুলে দিতে চাইছি না,আমরা আরো কয়েক সপ্তাহ এ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষন করে কেন্দ্রীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে মন্দির খুলে দেবো সকলের জন্য ।”
কুড়িগ্রাম রাধা-গোবিন্দ মন্দিরের গীতা স্কুলের শিক্ষক শ্রী সাগর কুমার রায় জানান,”মন্দিরগুলোতে আমাদের গীতা শিক্ষার পাঠদান এখন বন্ধ রয়েছে,শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো চালু হলে, আমরাও গীতা শিক্ষার পাঠদান শুরু করবো।”
বার্তা বাজার/পি.বি