রামগতিতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ, উভয় পক্ষের ২০ জন আহত

লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে উত্তর বড়খেরি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি কে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, হামলা ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়। এসময় উত্তর বড়খেরি এলাকায় বেশ কয়েকটি বাড়ী-ঘর, দোকান-পাট ভাঙচুর করা হয়েছে। এঘটনায় ৩০ মে রাত ৬০ জনের নামসহ ৮৫ জনের বিরুদ্ধে রামগতি থানায় মামলা করেন ওই বিদ্যালয় কমিটির সভাপতি ফারুক হোসেন।

অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে দ্বীর্ঘদিন থেকে স্থানীয় তসলিমদের সাথে স্কুল ম্যানেজিং কমিটি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। গত ২৬ ও ২৮ মে দু দফায় স্থানীয় শামছুদ্দোহা মুন্না মেম্বার ও আনোয়ার হোসেন খান মেম্বারের নেতৃত্বে কয়েক শতাধিক জলদস্যু লাঠি-সোটা, দা-চেনিসহ দেশীয় অস্ত্র-স্বস্ত্র নিয়ে সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার লাভনীর স্বামী ফারুকের উপর হামলা চালায় এসময় বাধা দিলে হামলার শিকার হয় ওই এলাকার আরো অনেকে। একইসময় বেশ কয়েকটি বাড়ীতে হামলা চালিয়ে বসতঘর, দোকান-পাট ভাঙচুর করা হয়। কেটে দেয়া হয় বিদ্যালয়ের বেশ কয়েকটি সুপারি গাছ লুট করে নিয়ে সয়াবিন। ঘরে ঢুকে মহিলাদের উপর হামলা চালায় এবং শ্লীতাহানির চেষ্টা করে বলেও অভিযোগ রয়েছে মুন্না মেম্বারের বিরুদ্ধে।

বর্তমান সভাপতি একই এলাকার খায়েরউল্যার ছেলে ফারুককে স্কুল কমিটির নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে ন্থানীয় ইউপি সদস্য শামছুদ্দোহা মুন্না, রাসেল, সুজন ও আনোয়ার হোসেন গংদের নেতৃত্বে পরিকল্পিতভাবে অর্ধশতাধীক দেশীয় অস্ত্র সজ্জিত সন্ত্রাসী নিয়ে ফারুক ও তার পরিবারের সদস্যদের উপর হামলা চালায়। এসময় উভয় পক্ষে ২০ জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে মুমর্ষ অবস্থায় আসমা আক্তার কে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে, জামাল, আফসানা বেগম, লিটন ও মাইনউদ্দিনকে রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। আবদুল হামিদ, রাকিব, এডভোকেট তাছলিম আলম, আবুল কাশেম রাহাতকে কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। আহত অন্যান্যদের স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে ।

স্থানীয়রা জানায়, গত বৃহষ্পিতিবার সন্ধ্যায় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সন্ত্রাসীরা স্কুল কমিটির সভাপতি মো: ফারুকের বাড়ীর দেয়াল ও ফটক ভেঙ্গে ফেলে , দোকানের সার্টার কেটে ফেলে, ফারুকের ভাই লিটনের ঘরের বেড়া ও বিভিন্ন গাছ কেটে ফেলে। এসময় অস্ত্রের মুখে তারা বাড়ীর লোকজনকে জিম্মি করে সারোয়ারের ঘর থেকে ২৩ বস্তা সয়াবিন লুট করে নিয়ে যায়।

অপরদিকে ইউপি সদস্য শামছুদ্দোহা মুন্না সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে জানান , জুয়া খেলার প্রতিবাদ করায় এডভোকেট তাছলিম আলমের পরিবারের সাথে সংরক্ষিত মহিলা মেম্বারের পরিবারের এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে ।

এর আগেও সন্ত্রাসীদের দিয়ে ওই এলাকার ১০/১২ টি ঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে মুন্না মেম্বার। এ বিষয়ে ক্যামরার সামনে কথা বলতে রাজি হয়নি অভিযুক্ত মুন্না মেম্বার।

তবে জুড়া খেলাকে কেন্দ্র করে এমন ঘটনা ঘটেছে। এবং স্থানীয় লোকজন জুড়ায়িদের ধাওয়া করেছে বলে জানান আরেক অভিযুক্ত তসলিম। তাদের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে বলে দাবী করেন তিনি।

এসব ঘটনায় শাহেদ নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামীদের গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান রামগতি থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ সোলায়মান।

বার্তা বাজার/টি.সি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর