পঙ্গপালের থাবায় বিপর্যস্ত পাকিস্তান

পঙ্গপালের থাবায় বিপর্যস্ত পাকিস্তান। দেশটির বেলুচিস্তান, পাঞ্জাব ও সিন্ধু প্রদেশে এরইমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে ফসলখেকো এই পতঙ্গ। গ্রীষ্মের ফসল, সবজি ও ফল নিয়ে দুশ্চিন্তায় চাষিরা।

দ্রুত এই পোকা দমনে ব্যর্থ হলে বড় ক্ষতির আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। গ্রীষ্মকালীন ফল ও সবজি এখনও ঘরে তুলতে পারেননি পাকিস্তানের চাষিরা। এমন সময়ে পঙ্গপালের হানায় দিশেহারা তারা।

চলছে তুলা, আখ রোপন ও ধান বপনের মৌসুম। তাই পঙ্গপালের আক্রমণ এখন কৃষকের কাছে করোনার চেয়েও বড় বিপদ। ফসল রক্ষায় একসঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ, কৃষিমন্ত্রণালয় ও খাদ্য নিরাপত্তা বিভাগ।

এক পাকিস্তানি বলেন, ‘পঙ্গপাল ঝাঁকে ঝাঁকে এসে ফসলের ক্ষতি করছে। কৃষি কর্মকর্তারা কীটনাশক স্প্রে করেছেন। এতে সব ফসল বাঁচানো না গেলেও উপকার হয়েছে।’

লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ আফজাল বলেন, ‘এবারে আসা পঙ্গপাল সংখ্যায় অনেক। জানুয়ারিতে আসার পর তারা ধীরে ধীরে বংশবিস্তার করতে শুরু করেছে। জুনের প্রথম ও দ্বিতীয় সপ্তাহ নাগাদ এরা ফসলের বড় ক্ষতি করে ফেলবে।’

কিশান ইত্তেহাদ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি খালিদ মেহমুদ বলেন, ‘করোনায় এখনো কেউ খাবারের সংকটে পড়েনি। কিন্তু পঙ্গপালের আক্রমণে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হবে। দেরি না করে এখনই জরুরি অবস্থা জারি করা উচিত।’

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা বলছে, ‘পঙ্গপালের আক্রমণে পাকিস্তানে গম ও আলুর ক্ষতি হবে ২ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার। এবং গ্রীষ্মকালীন ফসলের ক্ষেত্রে ক্ষতি দাঁড়াবে ২ দশমিক ৮৯ ডলারে।’

পঙ্গপালের বিস্তার রোধে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের ১৫শ টিম কাজ করছে। বিভিন্ন জায়গায় মোতায়েন করা হয়েছে সেনাবাহিনী। ২০১৯ সালের মার্চে পাকিস্তানে কমপক্ষে ৯ লাখ হেক্টর জমিতে পঙ্গপাল ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে ১৯৯৩ সালে পঙ্গপাল হানা দেয় দেশটিতে।

বার্তাবাজার/কে.জে.পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর