ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের খাদ্যগুদামের অনিয়মের অভিযোগে দপ্তরটি সকল কর্মকর্তা-কর্মচারিদের প্রত্যাহার করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে বিষয়টি জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো.জহিরুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন। একই সাথে খাদ্য গুদামটিতে কি কি ধরণের অনিয়ম হয়েছে তা তদন্ত চলছে।
উপজেলার আঠারবাড়ি খাদ্যগুদামে গেল বছরের অক্টোবরের শেষের দিকে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (উপ খাদ্য পরিদর্শক) হিসেবে যোদগান করেন মো. আশরাফ আলী। যোগদানের পর থেকে অসাধু ব্যবসায়ীদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেন আশরাফ। মোটা টাকার বিনিময়ে চোরাই চাল গুদামে প্রবেশ করাতেন। চলতি বোরো মৌসুমে আঠারবাড়ি খাদ্য গুদামে প্রায় ৩০০ মেট্রিক টন চাল কেনার সক্ষমতা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়।
ঈদ উপলক্ষে গুদামের কর্মীদের ছুটি দিয়ে চোরাই পথে কেনা চাল খাদ্য গুদামে প্রবেশ করান আশরাফ আলী। নান্দাইল উপজেলার ১০ টাকা কেজির চাল সিন্ডিকেট ব্যবসায়ী মতি মিয়া ও মিলন মিয়া খাদ্য গুদামে জমা করে মেসার্স ফরিদা রাইস মিলের নামে।
এমন খবর পেয়ে গত মঙ্গলবার বিকেলে অভিযানে যান উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জাকির হোসেন। ওই সময় এক নম্বর গুদামে প্লাস্টিক ও অন্যান্য বস্তায় প্রায় ৪ মেট্রিকটন চাল পাওয়া যায়। ওই অবস্থায় চাল জব্দ ও গুদামটি সিলগালা করা হয়।
খাদ্য কর্মকর্তার অনিয়মের খবর পেয়ে বুধবার সকালে হঠাৎ এসে হাজির হন খাদ্য অধিদপ্তরের মহা পরিচালক সারোয়ার মাহমুদ। তিনি ঈশ্বরগঞ্জ খাদ্য গুদাম ও আঠারবাড়ি খাদ্যগুদাম পরির্দশন করেন। আঠারবাড়ি খাদ্যগুদামে অনিয়মের বিষয়টি তদন্তের জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জহিরুল ইসলামকে প্রদান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
তদন্ত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (কারিগরি) শাহ আলাউদ্দিন ও সহকারী রসায়নবিদ উত্তম কুমার। গত দু’দিন ধরে তদন্তদল গুদামটিতে তদন্ত কাজ পরিচালনা করছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা জানান, অসাধু চক্রের সাথে সমন্বয় করে ব্যপক অনিয়মের মাধ্যমে কার্যক্রম চলছিলো গুদামটির। পুরাতন চালের অস্তিত্বসহ ব্যপক অনিয়মের তথ্য প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। ২ হাজার মেট্রিকটন ধারণ ক্ষমতার চারটি গুদামের সবগুলো সিলগালা করে তদন্ত কাজ চালাচ্ছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।
এদিকে অনিয়মের অভিযোগে খাদ্য গুদামটির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (উপ খাদ্য পরিদর্শক) মো. আশরাফ আলী ও ৭ নিরাপত্তা কর্মীকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাদের বরিশাল ও পিরোজপুর সংযুক্ত করা হতে পারে বলে সূত্র জানিয়েছে।
ময়মনসিংহ জেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, গুদামের খামাল পুরো পরীক্ষা নিরিক্ষার কাজ চলছে। পুরো বিষয়টি তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে গুদামটির কর্মকর্তা ও কর্মীদের প্রত্যাহার করা হয়েছে।
ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.জাকির হোসেন বলেন, খাদ্যগুদামে চাল অনিয়মের সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করতে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে নির্দেশ নেওয়া হয়েছে। জব্দকৃত চাল শনিবার উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হবে।
কেএ/বার্তাবাজার