গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে পানি জমে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলের জমির পাটক্ষেতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে দিশেহারা হয়ে পরেছেন কৃষকেরা। অনেকে উপায়ান্তর না পেয়ে পাম্প মেশিন দিয়ে পানি নিষ্কাশন করছেন।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পৌর এলাকা ও ৬টি ইউনিয়নে চলতি মৌসুমে ৭ হাজার ২৪০ হেক্টর জমিতে পাট চাষাবাদ হয়েছে। শুরুতে আবহাওয়া পাট চাষের অনূকুলে থাকলেও হঠাৎ জলাবদ্ধতায় পাটক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পরেছেন এ অঞ্চলের পাট চাষীরা।
অতিবৃষ্টির কারণে পাট গাছ শক্ত হতে পারছে না। দুর্বল হয়ে হেলে পড়ছে। জলমগ্ন পাটের গোড়ার উপর থেকে চারপাশে প্রচুর শিকড় বিস্তার পেয়ে পাট গাছ বড় হচ্ছে না৷ এতে ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার সদর ইউনিয়নের জাটিগ্রামে মালেক থান্দার নামের এক কৃষক তার পাটক্ষেত থেকে জলাবদ্ধতা দূরীকরণের জন্য পাম্প মেশিন দিয়ে পানি নিষ্কাশন করছেন। তিনি জানান, প্রায় ১ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। সেচ দিয়ে পাট বপন করেছেন। কিন্তু গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে পাটক্ষেতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।
তাই আবার পাম্প মেশিন দিয়ে দুই দিন ধরে পানি নিষ্কাশন করছেন। এর প্রভাবে উৎপাদন খরচ বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানান তিনি। উপজেলার দরুণা গ্রামের পাট চাষী ইয়ামিন শেখ জানান, ‘কয়েক দিন আগের বৃষ্টিতে কৃষকের উপকার হলেও অতি বৃষ্টি কৃষকদের জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আরও বৃষ্টি হলে শত শত হেক্টর জমির পাট পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়ে যাবে।’
ক্ষতিগ্রস্থ পাট চাষী নজীর সিকদার জানান, ‘যদি খাল দিয়ে পানি নিষ্কাশনের সুযোগ থাকতো তবে ক্ষতি কম হতো।’উপজেলার পাড়াগ্রামের কৃষক নাছির হোসেন জানান, ‘এবার বৃষ্টিতে জলাদ্ধতার কারণে শত শত কৃষক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।’
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রিপদ প্রসাদ সাহা বার্তা বাজারকে বলেন, ‘প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ওপর কারও হাত নেই। বৃষ্টিতে কিছু ক্ষতি হলেও আর বৃষ্টি না হলে বা আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে পাটের ফলনে তেমন ক্ষতির কোনো আশঙ্কা থাকবে না।’
কেএ/বার্তাবাজার