‘আমরা যুদ্ধ করে যাচ্ছি দৃশ্যমান ও অদৃশ্য শক্তির বিরুদ্ধে, দৃশ্যমান মশা (এডিস) এবং অদৃশ্য কোভিড-১৯ ভাইরাস’- এমনটি জানালেন সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং সাভার উপজেলা করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সচিব ডা. মোহাম্মদ সায়েমুল হুদা। শুক্রবার (২৯ মে) দুপুরে আশুলিয়ার পাথালিয়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের খেজুরটেক এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনের এক অভূতপূর্ব উদ্ভাবন ‘ফগিং মেশিন’ এর উদ্বোধন কালে একথা বলেন তিনি।

এসময় ডা. মোহাম্মদ সায়েমুল হুদা জানান, যেকোন মহামারী বা দূর্যোগের সময় সরকারি জনবল দিয়ে তার মোকাবেলা করা খুবই কঠিন। তাই আমাদের সাভারবাসী স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করছে আমাদের সাথে। বিজয় আমাদেরই হবে ইনশাআল্লাহ।
তিনি আরও জানান, আজ (শুক্রবার) পাথালিয়া ইউনিয়নে আমাদের নবীন স্বেচ্ছাসেবক দলের যারা এই ‘ফগিং মেশিন’ আবিষ্কার করেছে তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে উৎসাহ প্রদান করছি। এদের এই মেধাবী কর্মকাণ্ড আমাকে মুগ্ধ করেছে।
ডা. মোহাম্মদ সায়েমুল হুদা বলেন, বর্ষাকাল আসতে যাচ্ছে। তাই এখন থেকেই আমাদের এব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে যাতে করে ডেঙ্গুর ব্যাপক বিস্তার না ঘটতে পারে। গতবছর ডেঙ্গুর কারণে যত মানুষ মারা গেছে, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে তার একভাগও এখনো মারা যায়নি।
সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এখন থেকেই করোনার পাশাপাশি ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে কাজ করে চলেছে। সাভার উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে এজন্য স্বেচ্ছাসেবক টিম তৈরী করে এখন থেকেই কাজ শুরু করা প্রয়োজন।
পাথালিয়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের খেজুরটেক স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনের অভূতপূর্ব উদ্ভাবন তাদের নিজস্ব প্রযুক্তি ও অর্থায়নে তৈরি এডিস মশার বিরুদ্ধে যুদ্ধের হাতিয়ার ফগিং মেশিনের উদ্বোধন কালে আরো উপস্থিত ছিলেন পাথালিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মোঃ ফারুক হোসেন সহ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সকল সদস্যবৃন্দ।

এসময় পাথালিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা মোঃ ফারুক হোসেন বলেন, মানুষ স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখেনা, স্বপ্নই মানুষ কে বাঁচিয়ে রাখে। মানুষ নাকি তার স্বপ্নের সমান বড়,তাই যার স্বপ্ন যত বড়, মানুষ হিসেবেও সে ততো বড়।
তাই মানুষ আর মানুষের এই দুটোকেই বাঁচিয়ে রাখতে হলে আপনাকে নিতে হবে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত যা কখনো কখনো সময়ের চাইতেও দ্রুত গতিতে নিতে হয়। এমনই এক উদাহরণ সৃষ্টিকারী ব্যক্তিত্ব আমাদের শ্রদ্বেয় ডাঃ মোহাম্মদ সায়েমুল হুদা স্যার, যে মানুষটি নিরলস এবং নিরবচ্ছিন্ন ভাবে সময়ের চাইতেও এগিয়ে থেকে দৃশ্যমান (ডেঙ্গু-এডিস মশা) এবং অদৃশ্যমান (কোভিড-১৯) এর বিরুদ্ধে যুদ্ধের সম্মুখ সমরে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন।
তিনি আরও জানান, আর আমাদের এলাকার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন যারা নিজের প্রযুক্তি দিয়ে এই ‘ফগিং মেশিন’ বানিয়েছে তাদের প্রতিও অনেক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। এই মেশিন তৈরীর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ আমিই তাদের দিয়েছি।সকলের মিলিত শক্তি দিয়েই ইনশা আল্লাহ আমরা এই দুই অদৃশ্য শক্তির মোকাবিলা করতে সক্ষম হবো।
পরে, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এর সদস্যদের মাঝে তাদের আইডি কার্ড পরিয়ে দেন ডা. মোহাম্মদ সায়েমুল হুদা।
কেএ/বার্তাবাজার