ময়মনসিংহের নান্দাইলে আব্দুল করিম নামে ইউনিয়ন পর্যায়ের এক আওয়ামীলীগ নেতার বিরুদ্ধে আমেনা খাতুন নামে এক বিধবার ভাতা কার্ড এর ৩১ হাজার ২০০ টাকা তুলে আত্মসাত করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। জানাযায়, উক্ত বিধবা আমেনা খাতুন নান্দাইল উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের রহিমপুর গ্রামের মৃত ওয়াহেদ আলীর স্ত্রী।
গত প্রায় ২০ বছর পূর্বে দূরারোগ্য ব্যাধিতে আমেনা খাতুনের স্বামী মারা যায়। পরিবারের দুই ছেলে ও তিন মেয়ে নিয়ে কোনমতে দিন কাটাচ্ছে। তবে অভিযুক্ত নেতা আব্দুল করিম উক্ত বিধবা মহিলার সম্পর্কে দেবর হয়। আব্দুল করিম ইউনিয়ন পর্যায়ের সরকার দলীয় নেতা হিসাবে পরিচিত। কয়েকবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন করে পরাজিত হয়েছেন। সেই সুবাধে বিধবা ভাতা কার্ড করে দেবেন বলে আমেনা খাতুনের কাছ থেকে জাতীয় পরিচয় পত্র ও ছবি সংগ্রহ করেন আব্দুল করিম।
এক পর্যায়ে আমেনা খাতুনের নামে বিধবা কার্ডও করেছেন। কিন্তুু সেই কার্ডের ভাতার কোন টাকা পাননি আমেনা খাতুন। ঐ নেতা পাঁচ বছর ধরে ভাতার টাকা উঠিয়ে নিজেই আত্মসাত করে যাচ্ছিলেন। জানাযায়, সম্প্রতি এই রমজান মাসে সোনালী ব্যাংক নান্দাইল শাখায় বিভিন্ন উপকার ভোগীদের ভাতা দেওয়ার সময় অন্যান্য বারের মতো ওই নেতা নিজেই ভাতার বইটি নিয়ে ভাতা উত্তোলনে ব্যর্থ হলে। পরে তিনি আমেনা বেগমকে বিভিন্ন কায়দা কৌশলে ব্যাংকে নিয়ে এসে তিন হাজার টাকা উত্তোলন করে সেই টাকা নিজের হাতে নেন।
পরে আমেনা বেগমকে ২০০ টাকা ধরিয়ে দিয়ে একটি অটো করে বাড়ি পাঠিয়ে দেন। এরপর থেকেই ঘটনাটি প্রকাশ হতে থাকে এবং আমেনা খাতুন তার বিধবা ভাতার কার্ড সহ ভাতার সাকুল্য টাকা ফেরত চান। এ বিষয়ে অভিযুক্ত নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে নেতা ক্ষেপে গিয়ে বিধবা মহিলার প্রতি রাগান্বিত্ব হয় এবং এ বিষয়ে লেখালেখি না করতে সাংবাদিককে অনুরোধ করেন। বর্তমানে উক্ত আওয়ামীলীগ নেতা ভাতা বইটি ফিরিয়ে দেবার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। যদিও প্রথমে আব্দুল করিম উক্ত আমেনা খাতুনকে চিনেন না বলে জানান ও ভাতার বইটির বিষয়ে অস্বীকার করেছিলেন।
উপজেলা সমাজ সেবা কার্যালয় থেকে জানা যায়, আমেনা খাতুনের বিধবা ভাতার তালিকাভুক্ত হন ২০১৫ সালের ১ জানুয়ারি। তাঁর বই নং-৫৪৫৫/১ ব্যাংক হিসাব নং-১৫৮৪। এ পর্যন্ত মোটা টাকা উত্তোলিত হয়েছে ৩১ হাজার ২০০ টাকা।
নান্দাইল উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. ইনসান আলী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, এলাকার আরও তিন নারীর বিধবা ভাতার বই ওই করিমের কাছে থাকতে পারে। এ সব ঘটনায় তদন্তের পাশপাশি ২/১ দিনের মধ্যেই সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় উপজেলা মনিটিরিং কমিটির সভা আহ্বান করা হয়েছে। সেখানে সিদ্ধান্ত নিয়ে ওই করিমের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বার্তা বাজার/সি.কে