১৮ ঘন্টা পর সুন্দরবন থেকে উদ্ধার করা হয়েছে শরণখোলার ছয় জন কিশোরকে। সুন্দরবনে ঘুরতে গিয়ে পথ হারিয়ে পাঁচ কিলোমিটার গভীরে চলে যাওয়া কিশোররা ফোনে ৯৯৯ ফোন নম্বরে জানালে সুন্দরবন থেকে তাদেরকে উদ্ধার করে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার দুপুরে অভিভাবকদের হাতে তাদেরকে তুলে দেয়া হয়। ঘটনাটি ঘটেছে শরণখোলার উপজেলার ধানসাগর স্টেশনের আওতাধীন সুন্দরবন এলাকায়।
উদ্ধারকৃতরা হচ্ছে, উপজেলার দক্ষিন আমড়াগাছিয়া গ্রামের ফারুক খলিফার পুত্র সাইমুন (১৫), শহিদুল খলিফার পুত্র মাইনুল ইসলাম (২২), ইসাহাক খলিফার পুত্র জয় (১৭), শহিদুল খলিফার পুত্র জুবায়ের (১৬), জাহাঙ্গীর তালুকদারের পুত্র রহিম (১৮) ও রায়েন্দা বাজারের জাহাঙ্গীর খলিফার পুত্র ইমরান (২০)।
পুলিশ জানায়, বুধবার সকাল ১০টায় ছয় বন্ধু মিলে কৌতুহলবশতঃ উপজেলার রাজাপুর এলাকা থেকে সুন্দরবনে প্রবেশ করে। বনে প্রবেশের কিছুক্ষন পরে তারা পথ হারিয়ে ফেলে। পথ খুঁজতে খুঁজতে সন্ধ্যা হলে তারা বনের গাছে আশ্রয় নেয়। কিশোরদের মধ্যে একমাত্র রায়েন্দা সরকারি পাইলট হাই স্কুলের এসএসসি পরক্ষার্থী জয়ের মেবাইল ফোন সেট থাকলেও তাতে ব্যালেন্স ছিলনা।
সে তাৎক্ষনিক বুদ্ধি খাটিয়ে তার মোবাইল ফোন থেকে টোল ফ্রি ৯৯৯ নম্বরে কল করে তাদেরকে উদ্ধারের কথা জানায়। পরে শরণখোলা থানা ও ধানসাগর নৌ-পুলিশ স্থানীয়দের নিয়ে সুন্দরবনে গভীরে প্রবেশ করে তল্লাশি চালায়। তারা মাইকিং করে কিশোরদের সন্ধান পাওয়ার চেষ্টা করে।
এরপর মোবাইলে যোগাযোগের মাধ্যমে মাইকিং এর সাউন্ডের মাধ্যমে ভোর ৪ টায় সময় তাদের সন্ধান মিলে। তারা লোকালয় থেকে প্রায় ৫/৬ কিলোমিটার গভীর বনে ডুকে পড়ছিল বলে পুলিশ জানায়।।
জয় জানায়, মোবাইলে ব্যালেন্স না থাকলেও সে জানতো কােন প্রকার টোল ছাড়াই ৯৯৯ এ ফোন করা যায়। তাই সে বুদ্ধি খাটিয়ে ৯৯৯ ফোন করে সহযোগীতা চায়।
শরণখোলা থানার অফিসার ইন চার্জ এসকে আব্দুল্লাহ আল সাইদ জানান, কিশোরদের উদ্ধার করে থানায় এনে তাদের অভিভাবকদের খবর দেয়া হয়। দুপুরে সবাইকে মিষ্টি খাইয়ে কিশোরদের অভিভাবকদের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে।
বার্তাবাজার/এমকে