ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্ধ ইউনিয়নের টিটা মধুমতি নদীর ওপর নির্মিত দেশের তৃতীয় ভাসমান সেতুটি ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
এলাকাবাসী জানায়, ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তান্ডব শুরু হলে নদীর দুই পারের কংক্রিটের সংযোগ সেতুর থেকে ভাসমান কাঠামোটি খুলে যায়। পরে ভাসমান কাঠামোটি নদীর মাঝখানে চলে যায়। সেইসাথে নদীর পশ্চিম পারের কংক্রিট সেতুর অংশ ভেঙে পানিতে তলিয়ে যায়।

এ বিষয়ে টগরবন্ধ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সেতু নির্মাণের অন্যতম উদ্যোক্তা ইমাম হাচান (শিপন) বার্তা বাজারকে জানান, ‘ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে ভাসমান সেতুটি বিছিন্ন হয়ে গেছে। ইতোমধ্যে সংস্কারের কাজ চলছে। কয়েকদিনের মধ্যেই সেতু মেরামতের কাজ পুরোপুরি শেষ হয়ে যাবে।’
প্রসঙ্গত, টগরবন্দ ইউনিয়নের টিটা, টিটা-পানাইল, রায়ের পানাইল, শিকরপুর, ইকড়াইল ও কুমুরতিয়া গ্রামের চারপাশে মধুমতি নদী বেষ্টিত থাকার কারণে গ্রামগুলো মূল ভূখণ্ড থেকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। ওই ৬ গ্রামে প্রায় ১২ হাজার লোকের বসবাস।
বংশ পরমপরায় তাদের বছরের পর বছর নৌকায় পারাপার হতে হয়। অনেক সময় বৈরী আবহাওয়ায় রুদ্ধ হয়ে যায় যাতায়াতের এ মাধ্যমও। এতে অনেক সময় মুমূর্ষ রোগী কিংবা জরুরি কাজে অন্যত্র যাওয়া মানুষকে পড়তে হয় চরম ভোগান্তিতে। এই আজন্ম দুর্ভোগ থেকে রেহায় পেতে ওই এলাকার ৭০ জন ব্যক্তি স্বেচ্ছায় ৭০ লাখ টাকা দিয়ে তহবিল গঠন করে নির্মাণ করেছে ভাসমান সেতুটি।
প্লাস্টিকের ব্যারেল আর স্টিলের পাত দিয়ে ভাসমান এ সেতুটি তৈরী করা হয়েছে। ৯০০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১২ ফুট প্রস্থ সেতুটিতে ব্যবহার করা হয়েছে ৮৫২ টি প্লাস্টিকের ড্রাম ও ৬০ টন লোহা।
বার্তাবাজার/এমকে