ঈশ্বরগঞ্জে বিলের পানি থেকে নিখোঁজ ব্যক্তির লাশ উদ্ধার

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে বিলের পানিতে নিখোঁজ ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী বিলের পানিতে তল্লাশি চালিয়ে নিখোঁজের তৃতীয় দিনের মাথায় বৃহস্পতিবার সকালে লাশ উদ্ধার করে।

এর আগে গত মঙ্গলবার জুয়ার আসরে ম্যাজিষ্ট্রেট পুলিশের অভিযানের সময় পালাতে নিয়ে নিখোঁজ হন ওই ব্যক্তি। উপজেলার মাইজবাগ ইউনিয়নে বড়জোড়া ও বড়হিত ইউনিয়নের বড়ডাংড়ি গ্রামের সীমান্তবর্তী ‘বেই’ বিল নামের একটি বিলের উঁচু জায়গায় জুয়ার আসর বসানো হয়েছিলো।

মাস খানেক ধরে স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য বাবুল মেম্বার ও পৌর এলাকার ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে বসানো হয়েছিলো জুয়ার আসর। জুয়ার আসরে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠলে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মনোরঞ্জন বর্মন, জেলা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের টিম নিয়ে মঙ্গলবার বিকেলে অভিযান শুরু করে। ওই সময় ফজলুর রহমান, আক্তার হোসেন, আবদুল মালেক ও নয়ন মিয়া নামে চার জনকে ১ মাস করে কারাদন্ড প্রদান করে।

অভিযানের সময় জুয়ার আসার থেকে পালানোর জন্য বিলের পানিতে ঝাপ দেন মাইজবাগ ইউনিয়নের পরিষদের সদস্য রফিকুল ইসলাম রবির বড় ভাই বাবুল মিয়া বকুল (৪৫)। বকুল মল্লিকপুর গ্রামের নূরুল ইসলামের ছেলে। কিন্তু তিনি সাঁতার না জানায় পানিতে তলিয়ে যান। বাঁচাও বাঁচাও চিৎকার করে পানিতে তলিয়ে যান বকুল।

তাৎক্ষনিক গ্রামের লোকজন ও ঈশ্বরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের কর্মীলা বকুলের সন্ধানে বিলের পানিতে তল্লাশি চালালেও সন্ধান পায়নি। পরে বুধবার দিনভর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধানে তল্লাশি চালিয়ে ব্যর্থ হয়। কিন্তু স্বজন ও গ্রামের লোকজন বিলের পানিতে তল্লাশি অব্যহত রাখে।

গ্রামে মাইকিং করে ৫ শতাধীক লোকন বিলের পানিতে তল্লাশি চালায়। বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টার দিকে বিলের পানিতে লাশ পাওয়া যায় বাবুল মিয়া বকুলের। পরে লাশ পানি থেকে তুলে ইউনিয়ন পরিষদের নিয়ে যায়। ওই হাজারো মানুষ জড়ো হন।

মাইজবাগ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার পারভেজ বলেন, জুয়ার আসরে অভিযানের সময় নিখোঁজ হয়েছিলো বকুল। বৃহস্পতিবার সকালে তার লাশ বিলের পানিতেই পাওয়া গেছে।

বার্তাবাজার/এমকে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর