অনৈতিক কাজে রাজি না হওয়ায় এক গৃহবধূর মাথার চুল কেটে দিয়ে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে। নওগাঁর সাপাহার উপজেলার হাঁপানিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে নির্যাতিতা ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর স্বামী রফিকুল ইসলাম এবং তার শাশুড়ি রাজিয়া বিবি পলাতক রয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, ২০১৯ সালের প্রথম দিকে উপজেলার হাঁপানিয়া গ্রামের হোসেন আলীর ছেলে রফিকুল ইসলামের সঙ্গে চাঁপাইনবাবগঞ্জে শিবগঞ্জ উপজেলার চাঁনপুর সাহেব গ্রামের ওই গৃহবধূর (৩৩) বিয়ে হয়। বিয়ের পর দুতিন মাস ভালোভাবেই কেটেছে তাদের দাম্পত্য জীবন।
এরপর ওই গৃহবধূকে স্বামী রফিকুল ও শাশুড়ি রাজিয়ার মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করত। গত ২৩ মে উপজেলার স্বামী রফিকুল তার স্ত্রীকে দিয়ে অসামাজিক কাজে লিপ্ত হয়ে অর্থ উপার্জন করার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। এতে রাজি না হওয়ায় ওই গৃহবধূকে নির্যাতন ও মাথার চুল কেটে ফেলে পাষণ্ড স্বামী।
এর পর দুইদিন তাকে বাড়ি হতে বের হতে দেয়া হয়নি। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে বিভিন্ন ভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেয়া হয়। সোমবার বিকেলে ওই গৃহবধূ বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর বিষয়টি প্রকাশ পায়। এরপর থেকেই গৃহবধূর স্বামী ও শাশুড়ি পলাতক রয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে তাকে সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি।
সাপাহার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুল হাই জানান, নির্যাতিতা ওই গৃহবধূ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। নির্যাতিতা গৃহবধূর বাবা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানান ওসি।
বার্তা বাজার / ডি.এস