ঘূর্ণিঝড় আম্পানের ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছেন বিধবা সবেজান বেগম (৬২)। প্রলয়ঙ্কারী এ ঝড়ে তার ঘরটি ভেঙে গেছে। লন্ডভন্ড হয়ে গেছে মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু। সবেজান বেগমের বাড়ি ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের জাটিগ্রামে। টাকার অভাবে তিনি ঘরটি মেরামত করতে পারেননি এখনও। কোনরকম সহযোগিতাও জোটেনি কপালে।
সবেজান বেগমের বাড়িতে গেলে দুই চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে বলেন, ‘আপনারা কী ঝড়ে যাগে ঘর ভাঙ্গে গেছে তাগে নাম নেন? আমার ঘরডা ভাঙ্গে চুরমার হইয়ে গেছে। পারলে আমার একটা ঘরের নাম দিয়েন। আমার কাছে টাহা নাই, আপনাদের জন্য দোয়া করবো, তবুও আমার নামটা রাইখেন।’

জানা যায়, ছোট ছোট দু’টি মেয়ে রেখে তার স্বামী মারা যান। স্বামীর মৃত্যুর পর অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালাতেন। অভাবের সংসারে মেয়েদের পড়াশোনা করাতে পারেননি। মেয়েরা বড় হলে তাদের বিয়ে দিয়ে দেন। অন্যের বাড়িতে কাজ করে সামান্য সঞ্চয়ের টাকা দিয়ে কোনরকম টিনের বেড়ার নড়বড়ে একটি ঘর তোলেন। অন্তত: মাথা গোঁজার মত একটু ঠাঁই ছিলো। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় আম্পান তাও কেড়ে নিলো। দুমড়ে-মুচড়ে দিয়ে গেছে আশ্রয়ের শেষ ঠিকানা। বর্তমান পাশের এক প্রতিবেশীর বাড়িতে কোনরকম আশ্রায় নিয়েছেন তিনি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য রবিউল ইসলাম জানান, বিধবা সবেজান বেগম খুবই অসহায় ও গরীব। ঘরটি ভেঙ্গে পড়ায় অনেক কষ্টে পাশের এক বাড়িতে থাকেন। সরকারিভাবে একটি ঘর পেলে অনেক উপকার হতো তার।
সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ.কে.এম আহাদুল হাসান বার্তা বাজারকে জানান, ‘প্রাথমিকভাবে তাকে কিছুটা সহায়তা করা হবে। স্থায়ীভাবে একটি ঘর নির্মাণের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট আবেদন করা হবে।’
আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাশেদুর রহমান বার্তা বাজারকে বলেন,’ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের আবেদন সংগ্রহ করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের তালিকা যাচাই-বাছাই করে যারা পাওয়ার উপযুক্ত তাদের সহায়তা করা হবে।’
কেএ/বার্তাবাজার