বেনাপোল বন্দরের ওপারে বনগাঁ পৌরসভায় রয়েছে একটি সিন্ডিকেট। তারা দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি করে বেনাপোল বন্দরকে জিম্মি করে রেখেছে। প্রতিনিয়ত গাড়ি থেকে ব্যাপক হারে চাঁদা তুলে তারা বাংলাদেশের আমদানি কারকদের খরছের খাত বৃদ্ধি করে। অভিযোগটি বরাবর আমদানি রপ্তানি কারকদের।
দীর্ঘদিন ধরে এই অবস্থা চলমান থাকলেও ভারতীয় রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো কার্যকর ভূমিকা দেখা যায়নি । সুতরাং এই সিন্ডিকেট ধীরে ধীরে আরো শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
বৈশ্বিক মহামারী করোনার কারণে দুই মাস ধরে বেনাপোল বন্দরে আমদানি—রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। ভারতের কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকার বারবার পত্র দিয়ে বন্দর চালু করার কথা বললেও ওই সিন্ডিকেট তাতে কোন প্রকার কর্ণপাত করেননি।
উল্লেখ্য, গত ২০ এপ্রিল ভারতের কেন্দ্র সরকার আমদানি—রপ্তানি যাতে বন্ধ না থাকে সে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে পত্র দেন রাজ্য সরকারকে। কিন্তু রাজ্য সরকার সে পত্রের গুরুত্ব দেননি। ফলে কেন্দ্র সরকারের সিদ্ধান্ত থাকলেও আমদানি—রপ্তানি চালু হয়নি । পরবর্তীতে রাজ্য সরকার একটি পত্র জারি করেন জরুরী ভাবে আমদানি—রপ্তানি চালু করার।
কিন্তু বনগাঁ সিন্ডিকেট সে পত্র আমলে না নিয়ে খামখেয়ালীপনা এবং চাঁদাবাজির টাকা ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্ব তৈরি করে আমদানি—রপ্তানি বন্ধ রাখেন। তারা একটি অপকৌশল তৈরি করে এলাকার কিছু মানুষ রাস্তায় রাস্তায় নামিয়ে দেন। বলেন বাংলাদেশের অবস্থা খুবই খারাপ এবং সেখানে প্রচুর লোক মারা যাচ্ছে করোনাভাইরাসে।
মানুষের মাঝে এই মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করে আমদানি—রপ্তানি বন্ধ করেন তারা। তারা বলেন জনগণ বাংলাদেশ থেকে করোনা আসবে এই আশঙ্কায় আমদানি—রপ্তানি এই মুহূর্তে চান না। আসলে টিএমসির কিছু উদ্ভট লোকজনের খামখেয়ালিপনায় এই আমদানি—রপ্তানি বন্ধ আছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশন কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বেনাপোল বন্দর চালুর লক্ষ্যে বারবার ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সাথে নোম্যান্সল্যান্ডে দফায় দফায় মিটিং করলেও সেটা আসলে বাস্তবে রূপ নেয়নি। ফলে বেনাপোল কাস্টমস ও সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন একটা বিশেষ উদ্যোগে রেলের মাধ্যমে পণ্য আমদানি—রপ্তানির উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
এ বিষয়ে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ এবং সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশন সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে পত্র লেখেন। সে সুবাদে বাংলাদেশ রেল মন্ত্রণালয় একটি সিদ্ধান্ত নেন বেনাপোল বন্দরের মাধ্যমে রেলযোগে পণ্য আমদানিতে তাদের কোন বাধা নাই।
তারা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে অনুমতি চেয়ে একটি পত্র প্রেরণ করেন। দুই—একদিনের মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিলে আগামী সপ্তাহ থেকে রেলযোগে সমস্ত পণ্য আমদানি—রপ্তানি হবে বলে বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ মনে করেন।
এ ব্যবস্থা চালু হলে একদিকে বনগাঁ সিন্ডিকেট ভেঙ্গে যাবে অন্যদিকে অল্প খরছে আমদানি পণ্য বাংলাদেশে আসবে বলে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা মনে করেন।
কেএ/বার্তাবাজার