সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের সাথে অবৈধ যোগাযোগ স্থাপন করে কালোবাজারে কেনা চাল গুদামে ঢুকাতেন খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশরাফ আলী। নিজে উপস্থিতি থেকে প্লাস্টিক ও অন্যান্য বস্তা পাল্টে সরকারি বস্তা ভর্তি করতেন গুদামে রেখে।
এসব অনিয়মের বিষয়ে মুখ খুললে দূরবর্তী স্থানে কর্মচারিদের বদলি করে দেওয়ার হুমকি দিতেন। ঈশ্বরগঞ্জের আঠারবাড়ি সরকারি খাদ্যগুদামে অবৈধ ভাবে চাল প্রবেশ হয়েছে এমন অভিযোগে গুদাম সিলগালা করে দেওয়ার পর ঘটনা সরেজমিন দেখতে আসেন খাদ্য অধিদপ্তরের মহা পরিচালক সারোয়ার মাহমুদ। ওই সময় তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
উপজেলার আঠারবাড়ি খাদ্য গুদামে গেল বছরের অক্টোবরের শেষের দিকে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে যোদগান করেন মো. আশরাফ আলী। যোগদানের পর থেকে অসাধু ব্যবসায়ীদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেন আশরাফ।
মোটা টাকার বিনিময়ে চোরাই চাল গুদামে প্রবেশ করাতেন। চলতি বোরো মৌসুমে আঠারবাড়ি খাদ্য গুদামে প্রায় ৩০০ মেট্রিক টন চাল কেনার সক্ষমতা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। ঈদ উপলক্ষে গুদামের কর্মীদের ছুটি দিয়ে চোরাই পথে কেনা চাল খাদ্য গুদামে প্রবেশ করান আশরাফ আলী। নান্দাইল উপজেলার ১০ টাকা কেজির চাল সিন্ডিকেট ব্যবসায়ী মতি মিয়া ও মিলন মিয়া খাদ্য গুদামে জমা করে মেসার্স ফরিদা রাইস মিলের নামে।
এমন খবর পেয়ে মঙ্গলবার বিকেলে অভিযানে যান উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জাকির হোসেন। ওই সময় ১ নম্বর গুদামে প্লাস্টিক ও অন্যান্য বস্তায় প্রায় ৪ মেট্রিকটন চাল পাওয়া যায়। ওই অবস্থায় চাল জব্দ ও গুদামটি সিলগালা করা হয়। খাদ্য কর্মকর্তার অনিয়মের খবর পেয়ে বুধবার সকালে হঠাৎ এসে হাজির হন খাদ্য অধিদপ্তরের মহা পরিচালক সারোয়ার মাহমুদ। তিনি ঈশ্বরগঞ্জ খাদ্য গুদাম ও আঠারবাড়ি খাদ্যগুদাম পরির্দশন করেন।
ওই সময় খাদ্য গুদামের কর্মচারিদের সাথে কথা বলে অনিয়ম সম্পর্কে তথ্য জানার চেষ্টা করেন মহা পরিচালক। গুদামটিতে চলতি বোরো মৌসুমে বিভিন্ন মিলারের নামে নেওয়া ৬৬ মেট্রিকটন চাল সংগ্রহ করা হলেও প্রায় ৮০ শতাংশ চাল পুরুনো বলে ধারণা করা হয়। চাল গুলো গেল বোরো মৌসুমের হতে পারে। ওই অবস্থায় চালের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় ক্যামিকেল টেস্টের জন্য নেওয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে গুদামটির একজন কর্মী জানিয়েছেন, ভারপ্রাপ্ত খাদ্য কর্মকর্তা যোগদানের পর থেকে অসাধু চক্রের সাথে আঁতাত শুরু করেন। মুখ খুললে দূরবর্তী স্থানে বদলির হুমকি দিয়ে একাই অনিয়ম শুরু করেন। সিন্ডিকেট চক্রের সাথে সমন্বয় করে অবৈধ ভাবে চাল গুদামে প্রবেশ করানো শুরু হয়। অনৈতিক কাজের জন্য ঈশ্বরগঞ্জ থেকেও কয়েকটি মিলারকে এই গুদামে চাল দিতে আহ্বান জানিয়ে আনেন আশরাফ। সে জন্য চালের কেজি প্রতি কমিশন নিতেন তিনি।
তবে আশরাফ আলীর ভাষ্য- তিনি স্থানীয় চাপের মুখে গুদামে চাল গুলো রেখেছিলেন। তিনি অনিয়মের সাথে জড়িত নন।’ খাদ্য অধিপ্তরের মহা পরিচালন যাবার খবরে গুদামের সামনে শতাধীম মানুষ হড়ো হন।
ওই স্থানীয়রা জানান, অসাধু কর্মকর্তারে কারণে সরকারের বদনাম হচ্ছে। সরকারি চাল গরিবের ঘরে না গিয়ে হাত বদল হয়ে চক্রের মাধ্যমে আবার গুদামে চলে আসে। এতে লাখ লাখ টাকা কামিয়ে নেন জড়িতরা। এ ঘটনার সাথে জড়তি সকলের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দাবি করেন এলাকাবাসীর।
ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জাকির হোসেন বলেন, অবৈধ পন্থায় গুদামটিতে চাল প্রবেশ করানো হতো। বিষয়টি খাদ্য অধিপ্তরের মহাপরিচালক সরেজমিন পরিদর্শণ করেছেন। তিনি বলেন, উপজেলা সদর থেকে দূরবর্তী স্থানে গুদামটির অবস্থান হওয়ায় সিন্ডিকেট চক্রের সাথে মিলে অপকর্ম চলছিলো গুদামটিতে। জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
বার্তাবাজার/এমকে