গত এক সপ্তাহ ধরে পানি বন্দী অবস্থায় রয়েছে বাগেরহাটের শরণখোলার সাউথখালী ইউনিয়নের তিন গ্রামের তিন শতাধিক পরিবারের সহস্রাধিক মানুষ। ফলে, যাতায়াত, রান্নাবান্নাসহ তাদের স্বাভাবিক কর্মকান্ডে এলাকার মানুষ সীমাহীন দূর্ভোগে পড়েছে। এছাড়া পানি নোনা হওয়ায় গৃহস্থালী কাজে ওই পানি ব্যবহার করতে না পারায় আরো সমস্যায় পড়েছে তারা।
এদিকে, গ্রামগুলির ক্ষেত পানিতে ডুবে যাওয়ায় শাক-সবজিরর ক্ষতি হয়েছে। মাছের ঘের ও পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আঘাতে সেখানের বেরিবাঁধ ভেঙ্গে বলেশ্বর নদীর পানি প্রবেশ করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, ২০ মে আম্পানের প্রভাবে জোয়ারের পানির চাঁপে পাউবো’র ৩৫/১ পোল্ডারের সাউথখালীর আশারআলো মসজিদ হতে বগী পর্যন্ত প্রায় দু’কিলোমিটার বেরিবাঁধ ও খুড়িয়াখালীতে রিংবাঁধ ভেঙ্গে পানি প্রবেশ করে বগী, দক্ষিন চালিতাবুনিয়া ও দক্ষিন খুড়িয়াখালী গ্রামে। ফলে, পানিবন্দী হয়ে পড়ে ওই গ্রাম তিনটির তিন শতাধিক পরিবার।
বগী সাত ঘর গ্রামের রফিুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর হোসেন ও সিধাম জানান, আম্পানের আঘাতে বাঁধ ভেঙ্গে তাদের গ্রামে পানি প্রবেশ করেছে। এ অবস্থায় তারা চলাচল করতে পারছেননা। গৃহস্থালী কাজে ব্যবহার করতে পারছেননা ব্যবহার অযোগ্য নোনা পানি। অনেকের টয়লেট ডুবে থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন তারা। এক কথায় এক সপ্তাহ ধরে তারা চরম দুর্ভোগের মধ্যে আছেন।
খুড়িয়াখালী গ্রামের জালাল মোল্লা জানান, রিংবাঁধ ভেঙ্গে পানি ঢুকে তার চারটি মৎস্য ঘের তলিয়ে কয়েক লাখ টাকার মাছ ভেসে গেছে। একইভাবে তিন গ্রামের অনেকের মাছের ঘের ও পুকুর তলিয়ে ব্যপক ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
একই গ্রামের মজিদ ফরাজী জানান, পানি বন্দী হয়ে পড়ায় তারা সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। দক্ষিন চালিতাবুনিয়া গ্রামের দেলোয়র হোসেন ও মনির হোসেন জানান, গ্রামের ক্ষেতের বেগুন, মরিচ, ঢেড়সসহ অন্যান্য শাক সবজির গাছ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় তা সম্পূর্ন ক্ষতি সাধিত হয়েছে। যাতায়াতের জন্য অনেক ক্ষেত্রে তাদেরকে নৌকা ও কলাগাছের তৈরী ভেলা ব্যবহার করতে হচ্ছে। জলাবদ্ধ পানি দ্রুত নিস্কাশন করে তাদেরকে দুর্ভোগের হাত থেকে রক্ষা করার দাবী জানিয়ছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরদার মোস্তফা শাহিন জানান, গ্রামগুলি ঘুরে তিনি দেখেছেন। ওই এলাকার মানুষের দূর্ভোগ লাঘবে দ্রুত পানি অপসারন করে বেরিবাঁধ মেরামত করা হবে।
বার্তাবাজার/এমকে