ভাতিজার হাতে খুন হওয়া চাচার পরিবারের দায়িত্ব নিলেন ওসি!

ঈদের আগের দিন। অন্যান্য সবার মতো ঈদের সময় কাটানোর ফুসরত না পেলেও অন্তত শান্ত পরিবেশে ঈদের ডিউটি করার আশা করেছিল শিবগঞ্জ থানা পুলিশ! কিন্তু কথায় আছে, পুলিশের আবার কিসের ঈদ? সন্ধ্যা হতেই ফোন, দেউলী ইউনিয়নে ভাতিজার হাতে চাচা খুন! সাথে সাথে ইফতারি না করেই গাড়ি নিয়ে নিয়ে ছুটলেন সার্কেল এএসপি কুদরত-ই-খুদা শুভ, শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান ও মোকামতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ সনাতন চন্দ্র সরকার।

খুনীকে পাকড়াও করেছেন খুনের এক ঘন্টার মধ্যেই। তৎক্ষণাৎ লাশকে পোস্টমোর্টেমে পাঠিয়ে আসামীদের থানায় হাজির, জিজ্ঞাসাবাদ। ফলস্বরূপ ঈদের দিনের পরিশ্রমে আসামীদের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি। এভাবেই একটি খুনের ঘটনার সাথে ঈদ কাটলো শিবগঞ্জ থানা পুলিশের।

তাদের ঈদ মাটি হলেও খুনের শিকার শামিমের অসহায় পরিবারের ঈদ মাটি হতে দেননি শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান। পুলিশ পরিদর্শক সনাতন চন্দ্রকে সাথে নিয়ে দৈউলী ইউপির বিহারপুর গ্রামের মৃত শামীম এর পরিবারকে খাদ্য সহযোগীতা নিয়ে ছুটে গিয়েছেন তিনি। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে পরিবারটি যখন দিশেহারা পুলিশের পক্ষ থেকে এমন মানবিক সহায়তা যেন তাদের দিয়েছে নতুন করে বাঁচার আশা।

শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, মাত্র তিনশ টাকা দিতে না পেরে খুন হয়েছেন শামীম। তাই তার পরিবারের অসহায় অবস্থার কথা চিন্তা করে থাকতে পারিনি। তাই পুলিশ সুপারের নির্দেশে চাল, ডাল, তেল- মাংসসহ প্রায় এক মাসের খাদ্য সহায়তা নিয়ে তাদের বাড়িতে এসেছি। ভবিষ্যতেও তাদের পরিবারের পাশে থাকার ঘোষণা দেন তিনি।

জানা গেছে, ঈদের দিন আগে ২৪ শে মে সন্ধ্যা ৭টা সকলে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ে ব্যস্ত ঠিক তখনই শিবগঞ্জ উপজেলার বিহারপুর গ্রামে মাত্র ৩ শত টাকার জন্য ভাতিজা রনির ছুরিকাঘাত এ মারা যায় শামীম(৩৮)। শামীম কে হত্যাকারী তার বড় ভাই ও ভাতিজা রনি বিজ্ঞ আদালতে তাদের দোষ স্বীকার করে।

কেএ/বার্তাবাজার

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর