‘সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কার্যক্রম কখনো বন্ধ থাকে না’- সায়েমুল হুদা

সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কার্যক্রম কখনোই বন্ধ থাকে না বলে জানালেন সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং সাভার উপজেলা করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সচিব ডা. মোহাম্মদ সায়েমুল হুদা। মঙ্গলবার (২৬ মে) মুঠোফোনে বার্তা বাজার প্রতিনিধিকে একথা জানান তিনি।

এপ্রসঙ্গে তিনি বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সাভার কাজ করে জনস্বাস্থ্য ও জনস্বার্থে। তাই এই হাসপাতালের কার্যক্রম কখনোই বন্ধ থাকে না। কিছু বিষয়ে কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয় কর্মকর্তা, কর্মচারী ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায়।

তিনি আরও জানান, ঈদের একদিন পূর্বে ২৯ জন করোনা পজিটিভ শনাক্ত হন, তারমধ্যে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন আমাদের মেডিকেল অফিসার সহ আমাদের সাব এসিস্ট্যান্ট কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার, এমএলএসএস এবং ড্রাইভার। এদের প্রত্যেকেই তো সাভার উপজেলাবাসীর স্বাস্থ্য সুরক্ষার কাজে নিয়োজিত থেকে নিজ দায়িত্ব পালন করা অবস্থায় সংক্রমিত হয়েছেন।

ছবি:বার্তাবাজার।

তিনি বলেন, এছাড়া উপজেলায় ৩২৯ জন পজিটিভ রোগী বর্তমান, আমাদের হাসপাতালে আইসোলেশনে ৫ টি বেড অথচ ভর্তি আছে ৮ জন। তাদের সার্বক্ষণিক সেবা দিচ্ছেন আমাদের কর্মকর্তা ও কর্মচারীগন।

এসময় তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, কেউ কি জানতে চেয়েছেন কেমন আছি আমরা? কিংবা কেমন আছে আমাদের স্বাস্থ্যকর্মীগন? আমাদের ইনডোর, আউটডোর, জরুরি বিভাগের সকল কার্যক্রম, নরমাল ডেলিভারি, সিজারিয়ান অপারেশন, ইপিআই কার্যক্রম, সিসি সকল কাজ চলমান। কেউ তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন? তাহলে কেন আমাদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক মানষিকতা নিয়ে লেখালেখি? তবে হ্যা, আমরা কৃতজ্ঞতা জানাই অনেক সংবাদকর্মীদের যারা আমাদের মূল্যায়ন করছেন।

ডা. মোহাম্মদ সায়েমুল হুদা জানান, একটি হাসপাতালে যখন শতশত পজিটিভ রোগী আসে, বিধিমোতাবেক জরুরি সেবা চালু রেখে সম্পূর্ণ হাসপাতাল জীবাণুমুক্ত করতে হয় এবং সেটা ৪৮ ঘন্টা ধরেই করার নিয়ম। এজন্যই গতকাল ঈদের দিন এবং আজ (মঙ্গলবার) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কে সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত করতেই এই দুইদিন সাভার সিভিল ডিফেন্স ও ফায়ার সার্ভিস সহ অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং আমাদের টিম কাজ করেছে।

এই জীবাণুমুক্ত করণ খুবই জরুরী ছিলো; কারণ অন্যান্য চিকিৎসার জন্য আসা রোগী সহ যারা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত নন তারা এসে যাতে করে হাসপাতালের সর্বত্র যেমন কাউন্টার, দরজার হ্যান্ডেল, বসার জায়গা এসব থেকে করোনা ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত না হন এজন্যই এই হাসপাতাল জীবাণুমুক্ত করা হয়েছে এই দুইদিন।

তিনি বলেন, এছাড়াও গতকাল এবং আজ সাভারে যে ৩২৯ জন করোনা পজিটিভ রোগী রয়েছেন, তাদের বর্তমান অবস্থা নির্ণয়ে যেমন ১৪ দিন পার হলে তাদের দ্বিতীয় দফার নমুনা সংগ্রহ সহ তাদের সকলের তথ্য আপডেট করার কাজটিও করেছে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।

প্রসঙ্গক্রমে তিনি জানান, গত ২৩ মে, ২০২০ ইং পর্যন্ত ১৫৭১ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। আমাদের প্রশিক্ষন প্রাপ্ত কর্মকর্তা ৩ জন। তারমধ্যে একজন এমটিইপিআই, তাকে এ কাজ ছাড়াও সমগ্র উপজেলার টিকা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে কাজ করতে হচ্ছে। এই সীমিত জনবল নিয়ে করোনার এই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মধ্যে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কাজ চলমান রেখেছি আমরা, আমাদের সাধুবাদ না জানান, অন্তত নেতিবাচক লেখালেখি দ্বারা আমাদের মন ভেঙ্গে দিবেন না। আমরাও মানুষ এবং আমরাও আবেগতাড়িত হই।

প্রসঙ্গক্রমে তিনি আরও উল্লেখ করেন, গতকাল মাননীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডাঃ এনামুর রহমান নিজে ফোন করে তাদের সকলের খোঁজখবর নিয়েছেন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এছাড়া বিভাগীয় পরিচালক, সিভিল সার্জন ঢাকা, সাভার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলম রাজীব সহ সাভার উপজেলা করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ কমিটি এবং স্বেচ্ছাসেবক সকলে আমাদের নিয়মিত খোঁজখবর নিয়েছেন, তাদের সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা।

কেএ/বার্তাবাজার

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর