পুলিশ মানবতার বন্ধু, পুলিশ জনতারই বন্ধু তা আবারও প্রমান হলো। চুয়াডাঙ্গা পুলিশের শাসরুদ্ধকর অভিযানে নিখোঁজ চার ভাইবোন পৌওছালো আপন ঠিকানায়।
চুয়াডাঙ্গা সুপার জাহিদুল ইসলাম এর সঠিক দিক নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও চুয়াডাঙ্গা সদর থানার চৌকস টিমের সমন্বয়ে রাতভর শ্বাসরুদ্ধকর সফল অভিযানে চুয়াডাঙ্গায় একই পরিবারের চারটি শিশুকে উদ্ধার করে মা-বাবার কাছে ফিরিয়ে দিয়েছেন।
জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা পৌরসভাধীন বুজরুক গড়গড়ি এলাকার খোকনের ছেলে আশিক (২০), রহমত (১০), আশফিয়া (০৩) ও সাগরের ছেলে সোহান (১০) গতকাল ঈদের দিন দুপুর আড়াইটার সময় ঈদের আনন্দ করার জন্য এলাকায় বেড়াতে বাহির হয়। উলেখ্য যে, এরা চার ভাই বোন। আশিক এদের মধ্যে বড় এবং সে মোবাইল ব্যবহার করে।
পরে সন্ধ্যা লাগার পরও তাঁরা বাড়িতে ফেরে নাই। এলাকা এবং সকল আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে খোঁজ নিয়েও খোকন ও তার স্ত্রী কোথাও তাদের খুজে পাইনি। একপর্যায়ে থানাতে আসে এবং থানায় একটি নিখোঁজ জিডি করেন। যাহার জিডি নং ৮০৭।
চুয়াডাঙ্গার মানবিক পুলিশ সুপার মহোদয় বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে যে কোনোভাবে রাতেই এই ভিকটিম উদ্ধার নির্দেশ দেন। রাতেই অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) সার্কেল কলিমউল্লাহর মাধ্যমে নিখোঁজ ভিকটিম আশিকের মোবাইল এর শেষ অবস্থান নির্ণয় করা হয়।
পরে ভিকটিমের পরিবারের সাথে কথাবার্তা বলে আরো বেশকিছু নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রমাণ পেলে সংগৃহীত তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে দামুড়হুদা থানাধীন হেমায়েতপুর গ্রাম হইতে আশিকের সম্পর্কিত এক শ্যালক মোঃ রফিকুল ইসলাম, পিতা- বদর উদ্দিন এর বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিকভাবে জানা যায় যে, আজ থেকে ৬ মাস পূর্বে আশিকের দামুড়হুদা থানাধীন লোকনাথপুর গ্রামে বদর উদ্দিন এর মেয়ে বেলি খাতুনের সাথে বিয়ে হয়। কিন্তু বিয়ের পর মেয়েটি আশিকের ঘর করতে রাজি হয় নাই এবং তার সাথে বিবাহ বন্ধন ছেদ করার জন্য দুই পরিবারের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়ন চলছে। আশিক মূলতঃ তার বিয়ে করা এই স্ত্রীর সাথে পুনরায় সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য তার শ্যালকের সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলে।
শ্যালকের সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য মূলতঃ ভাই-বোনসহ রাতেই এখানে হাজির হয়। ঐ সময় সন্ধ্যারাত ও কিছুটা ঝড় বৃষ্টি হওয়াই এবং হেমায়েতপুর থেকে চুয়াডাঙ্গা শহর অন্ততঃ ২০ কিমি দূরবর্তী হওয়ায় আশিক ও তার ভাই-বোনসহ আর ফিরে আসতে পারে নাই এবং মোবাইল যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
অবশেষে পুলিশ সুপার মহোদয় সরাসরি তত্ত্ববধানে এবং নির্দেশনায় ওসি সাহেবের নেতৃত্বে চুয়াডাঙ্গা থানা পুলিশের একটি চৌকস টিম এক শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানের মধ্য দিয়ে ভোর রাত অনুমান ০৪.০০ ঘটিকার দিকে এই চারজন ভিকটিমকে উদ্ধার করে এই পরিবারের অসস্তি এবং হতাশা দূর করেন। পরবর্তীতে ভিকটিমদের তাহার পিতা মাতার নিকট ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
এদিকে, চুয়াডাঙ্গা পুলিশের এমন এক মানবিক কাজ করায় চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশকে সাধুবাদ জানিয়েছে জেলার সুধিসমাজ।
কেএ/বার্তাবাজার