কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় ওয়ার্ড আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজ্বী নবীর হোসেন নবী (৫৫) কে জবাই ও এলোপাতারী ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার সন্ধা আনুমাকি সাড়ে সাত টায় উপজেলার বাতাকান্দি মোহনপুর সড়কের কৈয়ারপাড় এলাকায়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
নিহত নবীর হোসেন (৬০) উপজেলা কৈয়ারপাড় গ্রামের মৃত তালেব আলীর ছেলে এবং সে ২নং জগতপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এঘটনায় নিহতে বড় ছেলে মোঃ রাসেল মিয়া বাদী হয়ে ১জনের নাম উল্যেখ করে ৪ জন অজ্ঞাত রেখে তিতাস থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু করা হয়েছে।
নিহতের বড় ছেলে রাসেল জানায় রবিবার ইফতারের পর স্থানীয় ভূইয়ার বাজার তার দোকান থেকে বাড়িতে যাইতে ছিল তার বাবা। কি কারনে খুন হতে পারে তার বাবা? জানতে চাইলে রাসেল জানায় প্রায় তিন মাস পূর্বে রাসেলের চাচাতো ভাই আউয়াল ডাকাতকে পুলিশ গ্রেফতার করে কোর্টে প্রেরণ করলে তখণ থেকেই তার পরিবারের লোকজন আমার বাবাকে সন্দেহ করে আসছে, বাবা নাকি তাকে ধড়িয়ে দিয়েছে।
রাসেল আরো বলে ডাকাত আউয়াল শুক্রবার বিকালে জামিনে এসে বাবাকে মেরে ফেলবে বলে প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে আসছিল,আউয়াল ও তার সহযোগিরাই নবীর হোসেনকে হত্যা করেছে বলে রাসেল দাবী করে। অপর দিকে একই গ্রামের সমাজ সেবক মো. মহসিন জানায় আমি মসজিদে এত্তেকাফে ছিলাম আমাকেও আউয়াল ডাকাত ডাকাডাকি করেছে মসজিদ থেকে বের হয়ে আসার জন্য আমাকে ও নবীরকে মেরে কৈয়ারপাড় স্বাধীন করবে বলে হুমকি দিয়েছে, এখনও তার দুই ভাই কাশেম ও আবু তাহের সৌদী আরব থেকে মোবাইলে ফোন দিয়ে হুমকি দিচ্ছে। যারা রাসেলকে মামলার বিষয়ে যে সহগোগিতা করবে তাদেরকেও মেরে ফেলবে।
নবীরের ছোট ভাই মোঃ হবি মিয়া বলেন, আমি বাড়ী থেকে সৎমেহের বিবির বাজরে যাওয়ার পথে যেখানে আমার ভাই খুন হয়েছে আমার বাতিজা আউয়ালকে রাস্তার পাশে দাড়িয়ে থাকতে দেখেছি। আমি যখন আামার বাতিজাকে অতিক্রম করে একটু সামেন গিয়েছি তখন আমার বড় ভাই সৎমেহের বিবির বাজার থেকে বাড়ীতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা করেছে এবং আমাকে অতিক্রম করে যখন একটু সামনে গেছে তখন আমি চিৎকার শুনি এবং দৌড়ে গিয়ে দেখি আমার ভাই নবীর হোসেনকে জাবাই এবং এলোপাতারি ছুরিকাঘাত করে ফেলে পালিয়ে যাচ্ছে আমার বাতিজা আউয়ালসহ আরো কয়েকজন। তখন তাকে উদ্ধার করে তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার মৃত ঘোষনা করে।
তিতাস থানার (ওসি) সৈয়দ আহসানুল ইসলাম বলেন নবীর হোসেনকে হত্যার ঘটনায় একজনের নাম উল্লেখ ও ৪ জনকে অজ্ঞাত রেখে হত্যা মামলা রুজু করা হয়েছে এবং আসামীদের দ্রুত গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে এবং মাঠে একাধীক টিম কাজ করে যাচ্ছে।
বার্তাবাজার/এমকে