এক বছর গেলেও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নির্মাণ হয়নি সাতক্ষীরা উপকূলের বাঁধ

গত ৫ মে ২০১৯ তারিখে ঘূর্ণিঝড় ফনীর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত সুন্দরবন উপকূলের জনপদ পরিদর্শন শেষে সাতক্ষীরা সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়ে উপকূলীয় এলাকায় টেকসই বেঁড়িবাধ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন দুই মন্ত্রী।

সেদিন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপ-মন্ত্রী এ. কে. এম এনামুল হক শামীম বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত বেঁড়িবাধ সংস্কারের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে। বাঁধগুলো প্রশস্ত ও উঁচু এবং টেঁকসই করা হবে। মন্ত্রী আগামী তিন দিনের মধ্যে উপকুলের ১২ কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত বেঁড়িবাধ সংষ্কারের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে নির্দেশও দিয়েছিলেন।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান এ সেময় বলেছিলেন, সাতক্ষীরা ও খুলনার ঘূর্ণিঝড় ফনীর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চল পরিদর্শন করেছি। তেমন কোন ক্ষয়ক্ষতি চোখে পড়েনি। তবে, কালবৈশাখী ঝড়েও আমাদের দেশে কম বেশি ক্ষয় ক্ষতি হয়। মন্ত্রী এ সময়, ফনীর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর নির্মাণে টিন ও নগদটাকা প্রদানসহ সাতক্ষীরা জেলায় আরো ১০০টি সাইক্লোন সেন্টার নির্মাণ ও বেঁড়িবাধ সংস্কারের আশ্বাস দেন।

এছাড়া গত ৩ জানুয়ারি ২০২০ শুক্রবার বেলা বারটার দিকে সুন্দরবন সংলগ্ন নীলডুমুর এলাকার পাঁচ নম্বর পোল্ডার পরিদর্শনকালে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক বলেছিলেন সুন্দরবন সংলগ্ন গুরুত্বপুর্ন জনপদ শ্যামনগর উপকূল রক্ষার জন্য নুতন ডিজাইনে টেকসই প্রযুক্তিতে উপকূল রক্ষা বা বন্যা নিয়ন্ত্রন রক্ষা বাঁধ নির্মান করা হবে।

পর্যায়ক্রমে সুন্দরবন সংলগ্ন সীমান্তবর্তী সাতক্ষীরার শ্যামনগর থেকে টেকনাফ পর্যন্ত নুতন এবং টেকসই প্রযুক্তিতে বাঁধ নির্মিত হবে। উপকূল রক্ষা বাঁধ নির্মানের মাধ্যমে উপকুলীয় এলাকায় বসাবাসরত জনগোষ্ঠীর স্বার্থ সুরক্ষার বিষয়টিকে প্রধানমন্ত্রী অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেখছেন।

সেদিন প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন উপকুলীয় জনসাধারন প্রায় প্রতিনিয়ত প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হয়ে মহা দুরাবস্থার মধ্যে নিপতিত হচ্ছে। বিষয়টিকে সক্রিয় বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে তিনি উপকুলবর্তী এলাকা পরিদর্শনে এসেছেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পাঁচ হাজার কোটি টাকার মেগাপ্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে টাকা বরাদ্দে বিলম্ব হওয়ার কারণে জরুরী ভিত্তিতে উপকূল রক্ষা বাঁধের মারাত্বক ঝুঁকিপুর্ন এলাকাসমুহ সংস্কারের প্রাথমিক পরিকল্পনা গৃহীত হয়েছে।

কেএ/বার্তাবাজার

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর