পঞ্চগড়ে অর্ধশতকে পৌছালো করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলায় ৭ জন, আটোয়ারী উপজেলায় ২ জন, সদর উপজেলায় ১৫ জন, বোদা উপজেলায় ৬ জন ও দেবীগঞ্জ উপজেলায় ২১ জন। এদের মধ্যে ১০ জন করোনা থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন। তারা নিজ বাড়িতে আছেন বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ ফজলুর রহমান।
এ পর্যন্ত মোট ১০০৭ জনের নমুনা সংগ্রহ করে রংপুর ও দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পিসিআর ল্যাবে পাঠানোর পর ৯২৮ জনের নমুনা পরিক্ষায় ৫১ জনের করোনা পজেটিভ এসেছে ও ১০ জন করোনা মুক্ত।
জেলার আক্রান্তদের মধ্যে তেঁতুলিয়া উপজেলার ৭ জনের সবাই বাংলাবান্ধা, তিরনইহাট, শালবাহান, দেবনগড় ইউনিয়নের বাসিন্দা,আটোয়ারী উপজেলার ২ জন ধামোর ও মির্জাপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা, সদর উপজেলার ১৫ জন হাফিজাবাদ, চাকলাহাট,সদর,ধাক্কামারা, কামাত কাজলদিঘী, হাড়িভাসা,সাতমেড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা, বোদা উপজেলার ৬ জন বেংহারী বনগ্রাম ও সাকোয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং দেবীগঞ্জ উপজেলার ২১ জন পামুলি,টেপ্রীগঞ্জ,চিলাহাটি, চেংঠিহাজরা ডাংগা,সোনাহার ইউনিয়নের বাসিন্দা।
জেলায় প্রথম করোনা রোগীর সন্ধান মেলে ১৭ এপ্রিল তেঁতুলিয়া উপজেলার তিরনইহাট ইউনিয়নের নাজিরা গছ গ্রামে। তিনি একজন নারী ছিলেন এবং তার বয়স ছিল ৪৫ বছর। বর্তমানে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন। এরপরে পঞ্চগড়ে গত ১ এপ্রিল-১৭ মে এক মাসে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দ্বারায় ২০ জনে কিন্তু সেই সংখ্যা দ্বিগুন হতে সময় লাগে মাত্র ৬ দিন।
এরপর গতকালের ১৪ জন সহ জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫১ জনে। জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা অর্ধশতকে পৌছাতে সময় লাগে ৩৭ দিন। পঞ্চগড়ে ৫১ জন করোনা আক্রান্তের মধ্যে ৪৯ জনই ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ,কুমিল্লা,চট্টগ্রাম, নরসিংদী সহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা আর বাকী ২ জন জেলার স্থায়ী বাসিন্দা। তারা ঢাকা ফেরতদের দ্বারা আক্রান্ত হন।
এদিকে সারা দেশের ন্যায় পঞ্চগড়েও গত ২৪শে মার্চ থেকে গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও চলছে সিএনজি, ইজিবাইক সহ তিন চাকার যানবাহন। এসব যানবাহনে মানুষ গাদাগাদি করে এক স্থান হতে অন্য স্থানে যাতায়াত করছে আগের মতই স্বাভাবিক ভাবেই। জেলার ৭০ শতাংশ মানুষই এখন আর ব্যবহার করছেন না কোন ধরনের মাস্ক। সাবান বা স্যানিটাইজার দিয়ে হাত ধোঁয়ার প্রবনতাও অনেকটা কমে গেছে আগের চেয়ে। ফলে স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহলের নাগরিকেরা।
পঞ্চগড়ে লকডাউন চললেও নেই তেমন কড়াকড়ি আরোপ। সব কিছু চলছে আগের মতই।তবে জেলা ও উপজেলা শহরের দোকানপাট গুলো বিকেল ৪ টার মধ্যেই বন্ধ হচ্ছে। এদিকে জেলার গ্রামের হাট-বাজার গুলো ফিরেছে পূর্বের অবস্থায়। বাড়ছে মানুষের উপচে পড়া ভীড়। সেই সাথে চায়ের দোকান, পান-বিড়ি-সিগারেটের দোকানে মানুষ ভীড় করছে আগের মতই। সরকারী নির্দেশনা মোতাবেক জরুরী নিত্য প্রয়োজনীয় দোকান-পাট গুলি ছাড়া অন্য দোকান খোলার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলেও কেউ মানছেনা তা। পুলিশি তৎপরতা বন্ধ হওয়ায় গ্রামের বাজার গুলো রাত ১০ টার আগে এখন আর বন্ধ করছেনা কেউই। জেলার কাঁচা বাজার গুলো উন্মুক্ত মাঠে সড়িয়ে নেয়া হলেও অনেক এলাকায় তা পূর্বের অবস্থায় ফিরেছে।
পঞ্চগড় সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ ফজলুর রহমান জানান, সিভিল সার্জন ডা. ফজলুর রহমান জানান, জেলায় এ পর্যন্ত ১০০৭ জনের মধ্যে ৯২৮ জনের পরীক্ষার ফলাফলে ৫১ জনের করোনা পজিটিভ পাওয়া গেছে। আক্রান্তদের বাড়িতে আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। তবে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে ১০ জন মুক্ত হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন। তারা নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন। আমরা সকলের নিয়মিত খোঁজ খবর নিচ্ছি।
জেলা পুলিশ সুপার মোঃ ইউসুফ আলী বলেন, আমরা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে মানুষের মাঝে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টি করছি। যত্রযত্র তিন চাকার যানবাহন চলাচলে লক্ষ্য রাখছি। ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন স্থান হতে পঞ্চগড়ে যারা এসেছ তাদের লকডাউনে কার্যকরী ভূমিকা রাখছি। আমরা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ করেছি। যাতে করে তাদের দূর্দশা একটু হলেও লাঘব হয়।
জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন জানান, পঞ্চগড়ে লকডাউন কার্যকরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সরকারি নির্দেশনা অমান্যকারীদের ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের জন্য খাদ্য সামগ্রী, ঈদ উপহার পাঠানো হয়েছে। যাতে করে ঈদের আনন্দ হতে তারাও বঞ্চিত না হয়।
বার্তাবাজার/এমকে