প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস মহামারির কারণে এবার দেশের কারাগারগুলোতে ঈদের জামাত হবে না। তবে বন্দিরা চাইলে নিজ নিজ সেলে ঈদের জামাত আদায় করতে পারবেন। বিষয়টি জানিয়েছে কারা অধিদপ্তর।
ঈদের জামাত বন্ধ ছাড়াও স্বজনদের দেয়া খাবার সরবরাহ ও সাক্ষাৎও বন্ধ থাকবে এবার ঈদে। তবে কারাগারের বাইরে কারা মসজিদগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কারারক্ষী ও স্টাফরা ঈদের জামাত আদায় করতে পারবেন। এক্ষেত্রে প্রয়োজনে একঘণ্টা ব্যবধানে একাধিক জামাত অনুষ্ঠিত হতে পারে।
কারা অধিদফতর থেকে গণমাধ্যমকে জানানো হয়েছে, ঈদের জামাত সাধারণত কারাগারের ভেতরে খোলা জায়গায় এবং বাইরে কারা মসজিদগুলোতে অনুষ্ঠিত হয়। বাইরে কারারক্ষী এবং স্টাফদের জন্য ঈদের জামাত হয়। আর ভেতরে বন্দিদের জন্য ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। বাইরের কারা মসজিদগুলোতে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি ও নিরাপত্তা মেনে। প্রয়োজনে এক ঘণ্টার ব্যবধানে একাধিক জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
তবে ভেতরের বন্দিদের যে জামাতটা খোলা জায়গায় অনুষ্ঠিত হয়, সেটা এবার হবে না। বন্দিরা নিজেদের সেলের মধ্যেই নিজেরা ঈদের নামাজ পড়ে নেবে। ঈদের জামাত শেষে কোলাকুলি ও হ্যান্ডশেক না করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
ঈদ উপলক্ষে স্বজনদের দেখা-সাক্ষাতের চাপ বেড়ে যায়। সে কারণে এবার ঈদ উপলক্ষে বন্দিদের সঙ্গে স্বজনদের সাক্ষাৎ বন্ধ থাকবে। ইতোমধ্যে দেশের সব কারাগারে এ বিষয়ে নোটিশ পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। এছাড়া প্রতিবছর স্বজনদের কাছ থেকে বন্দিদের জন্য যে খাবার পাঠানো হয়, সেটা দেয়া বন্ধ থাকবে স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির বিষয়টি চিন্তা করে। ঈদের দিন কারাগারের পক্ষ থেকে উন্নত খাবার দেয়া হয়।
সকালে মুড়ির সঙ্গে পায়েস অথবা সেমাই দেয়া হবে। ছোট কারাগার হলে দুপুরে পোলাও গরু ও খাসির মাংস দেয়া হয়। বড় কারাগার হলে এই খাবার বিকেলে দেয়া হয়। আর রাতের খাবার হিসেবে সাদা ভাতের সঙ্গে আলুর দম ও মাছ দেয়া হবে।
বার্তা বাজার / ডি.এস