কলারোয়ায় করোনা শনাক্ত ব্যক্তির বাড়িসহ ৮/১০টি বাড়ি লকডাউন

কলারোয়ার চন্দনপুর ইউনিয়নের হিজলদী গ্রামে করোনা শনাক্ত ৩য় ব্যক্তির বাড়িসহ ৮/১০টি বাড়ি আশপাশের চত্বর লকডাউন করা হয়েছে। একই সাথে ওই ব্যক্তির স্বজন, সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিসহ ১৮ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

শনিবার সকালে কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচ এন্ড এফপিও) ডাক্তার জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে স্যাম্পল কালেকশন টিম হিজলদী গ্রামে গিয়ে গাজিপুর ফেরত করোনা শনাক্ত হওয়া ওই যুবকের পিতা, ভাইসহ আশপাশের ১৫জন এবং তাদের সংস্পর্শে আসা ৩জন গ্রামপুলিশের নমুনা সংগ্রহ করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ইউএইচ এন্ড এফপিও ডাক্তার জিয়াউর রহমান জানান, ‘গত ১৯মে ওই যুবকের নমুনা সংগ্রহ করে খুলনা ল্যাবে পাঠানো হয়। ২২ মে শুক্রবার প্রাপ্ত রিপোর্টে তার করোনা পজিটিভ আসে। ২৩ মে শনিবার আমরা সেখানে গিয়ে তার সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের স্যাম্পল কালেকশন করি।’

তিনি আরো বলেন, ‘এদিন পর্যন্ত ২১৪টি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১১৬ টির মত রিপোর্ট হাতে পেয়েছি। এর মধ্যে ৩টি পজিটিভ।’

নমুনা সংগ্রহের সময় ইউএইচ এন্ড এফপিও ডাক্তার জিয়াউর রহমান ছাড়াও আরো উপস্থিত ছিলেন কলারোয়া হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডাক্তার শফিকুল ইসলাম, মেডিকেল অফিসার ডাক্তার বাপ্পাদিত্ত গাইন, এমটি ইপিআই কাজী নাজমুল হাসান, কার্ডিওগ্রাফআর সুব্রত, সাবেক স্বাস্থ্যকর্মী সিরাজুল ইসলাম, হিজলদি কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি শেফালী খাতুন, সরকারি হাসপাতালের এমবুলেন্স ড্রাইভার শিমুল হোসেন প্রমুখ।

এদিকে, শুক্রবার রাতে খবর পেয়ে কলারোয়া থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মুনীর-উল-গীয়াস করোনা আক্রান্তের বাড়ি এলাকায় গিয়ে সেখানকার সকলকে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেন। আর শনিবার সকালে থানা পুলিশের একটি টিম সেখানে গিয়ে হিজলদি ব্রিজ থেকে ওই বাড়ি এবং আশপাশ এলাকা আনুষ্ঠানিক লকডাউন করেন।

ওসি মুনীর-উল-গীয়াস বলেন, ‘করোনা পজেটিভ ব্যক্তির বাড়িসহ ৮/১০টি বাড়ি এবং আশপাশের চত্বর লাল পতাকা তুলে লকডাউন করা হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, ‘হিজলদি গ্রামের মফিজুল ইসলামের পুত্র ইব্রাহীম হোসেন (২১) ঢাকার পার্শ্ববর্তী গাজীপুরে ঝুট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ৫/৬ দিন আগে তিনি বাড়িতে আসেন। স্থানীয়দের চাপে গত ১৯ তারিখে তিনি হাসপাতালে গিয়ে তার নমুনা পরীক্ষা করে আসেন।’

তারা আরো জানান, ‘করোনা আক্রান্ত যুবক তেমন কোথাও না গেলেও তার পিতা হিজলদী বাজারসহ আশপাশে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেরিয়েছেন, নিষেধ করলেও তিনি শোনেননি।’ উল্লেখ্য, কলারোয়ায় প্রথম করোনা শনাক্ত ব্যক্তি মাজেদুল ও তার স্ত্রীর গ্রাম দাড়কির একেবারেই লাগোয়া গ্রাম হিজলদী। সেখানেই তৃতীয় করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির সন্ধান মিললো।

সব মিলিয়ে উপজেলার ৩ জন করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিই হলেন চন্দনপুর ইউনিয়নের পাশাপাশি গ্রামের বাসিন্দা। এ নিয়ে কলারোয়ায় প্রথমে (১৬ মে) করোনায় আক্রান্ত দাড়কি গ্রামের মাজেদুল ইসলাম (৩৭), পরে (২০ মে) মাজেদুলে স্ত্রী মিম (২২) এবং ২২ মে শুক্রবার ইব্রাহীমের নমুনা সংগ্রহের পর রিপোর্টে করোনা পজিটিভ এসেছে। এদিকে, কলারোয়ার চন্দনপুর ইউনিয়নে ৩ জনের শরীরে করোনা সনাক্ত হওয়ায় চারদিকে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে।

কেএ/বার্তাবাজার

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর