দিনমজুরের কাজ করতেন প্রভাষ ঘোষ (৫৫)। বসত ভিটে আর ছোট্ট একখন্ড জমিই ছিলো তার সম্বল। বাড়িতে দুটি গরু আর হাঁস-মুরগি পালন করে সংসার নির্বাহ করতেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ি ইউনিয়নের কুলতিয়া গ্রামের উপেন্দ্র নাথ ঘোষের পুত্র প্রভাষ ঘোষ।
দারিদ্র্যের সাথে সংগ্রাম করে একমাত্র ছেলে প্রশান্ত ঘোষকে লেখাপড়া শিখিয়েছেন মাস্টার্স পর্যন্ত। চাকরি হয়নি তার। প্রভাষ ঘোষের স্বপ্ন ছিলো ‘একদিন সংসারে সুদিন আসবে’। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ হতে দিলো সর্বনাশা আম্পান। ২০ মে রাতে সুপার সাইক্লোন আম্পানের নিষ্ঠুর ছোবলে প্রাণ হারিয়েছেন প্রভাষ ঘোষ।
প্রভাষ ঘোষের স্ত্রী সন্ধ্যা রাণী ঘোষেরর উদ্ধৃতি দিয়ে স্থানীয় ইউপি মেম্বর মহাদেব কুমার ঘোষ বলেন, ২০ মে রাতে প্রলয়ঙ্কারী ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আঘাতে প্রভাষ ঘোষের গোয়ালঘরের চালের মাটির টালি (খোলা) উড়তে থাকে। এসময় প্রভাষ ঘোষ গোয়ালে থাকা গরু আনতে গিয়ে মাটিতে পড়ে মৃত্যুবরণ করেন। প্রভাষ ঘোষ গোয়াল ঘর থেকে গরু বের করতে গিয়ে আর ফিরে না আসায় খোঁজ করতে যেয়ে সন্ধ্যা রাণী ঘোষ প্রভাষের মৃত দেহটি গোয়াল ঘরের পাশে পড়ে থাকতে দেখেন। পরিবারের লোকজনের চিৎকার শুনে প্রতিবেশিরা ছুটে এসে প্রভাষের মৃত দেহটি উদ্ধার করে। ২১ মে, বৃহস্পতিবার দুপুরে কুলতিয়া শশ্মানে প্রভাষের মরদেহ দাহ করা হয়। স্থানীয়রা বলেন, ঝড়ের কারণেই প্রভাষের মৃত্যু হয়েছে। অথচ কে বা কারা তার মৃত্যু সম্পর্কে প্রশাসনের কাছে ভুল তথ্য দিয়েছে। প্রশাসনের কাছে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করা হয়েছে বলে জানান স্থানীয় ইউপি মেম্বর মহাদেব ঘোষসহ অনেকেই।
এদিকে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির মৃত্যুতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে পরিবারটি। কান্না থামানো যাচ্ছে না তাদের। সান্ত্বনা খুঁজে পাচ্ছে না কোথাও। স্থানীয়রা বিষয়টি প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ ব্যাপারে ফিংড়ি ইউপি চেয়ারম্যান শামসুর রহমানের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
বার্তা বাজার/টি.সি