করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে সর্বত্র স্থবিরতা। বিপর্যস্ত জীবন। নানা ধরণের সংকটে ভোগা পরিবারের পাশে সরকারি, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগ, রাজনৈতিক-সামাজিক, মসজিদ ভিত্তিক উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে হৃদয়বান মানুষ। করোনার এই দুর্যোগে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে রেকার্ড সংখ্যক পরিবারকে খাদ্যসহায়তাসহ বিভিন্ন ধরণের সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
নোভেল করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার ১১ টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার নিম্ম আয়ের মানুষ কর্মহীন পড়ে। বন্ধ হয়ে যান যানচলাচল, ব্যবসা-বাণিজ্য। এতে হাজার-হাজার মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েন। দিন আনে দিন খায় এমন পরিবার গুলোর উপার্জনক্ষম ব্যক্তি কর্ম হারিয়ে সরকারি নির্দেশনা মেনে বাড়িতে অবস্থান করার প্রেক্ষিতে মানবিক সংকেট জীবন যাপন শুরু করতে থাকে। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে সরকারি পর্যায়ে অসহায় হয়ে পড়া মানুষের বাড়িতে খাদ্য সহায়তা উপহার হিসেবে পাঠানো শুরু হয়। ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জাকির হোসেন প্রতিটি এলাকায় উপযুক্ত বিবেচনায় মানুষের বাড়ি বাড়ি খাদ্যসহায়তা পৌঁছানো শুরু করেন। সরকারি সহায়তার পাশাপাশি ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠানের, রাজনৈতিক, সামাজিক, মসজিদ ভিত্তিক, ব্যবসায়ী সংগঠন গুলোকে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে অসহায় হওয়া মানুষের পাশে দাঁড়াতে উদ্বুদ্ধ করেন।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গ্রাম গ্রামে ঘুরে অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্যসহায়তা বিতরণ করা হয় করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকেই। পৌরসভার ও ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তালিকা প্রণয়ন করে সরকারি খাদ্য সহায়তা পাঠানো হয়। সরকারি ভাবে বারদ্দে চালের সাথে কখনও আলু, ডাল, তেল, সবজি যুক্ত করে বিতরণ করেন জনপ্রতিধিরা। স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে করোনায় অসহায় হয়ে পড়া মানুষের বাড়ি বাড়ি খাদ্যসহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়। চাল, আলু, ডাল, তেল, সবজি ও অন্যান্য সামগ্রীর পাশাপাশি মানুষের আমিষ ও প্রোটিনের চাহিদা মেটানোর জন্য মাছ ও মুরগীও বিতরণ করা হয়।
২০১১ সালের আদম শুমারির পরিসংখ্যান অনুযায়ী ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় মোট পরিবার (খানা) রয়েছে ৮১ হাজার ৭০ টি। এর মধ্যে সরকারি, বেসরকারি, ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠানের, রাজনৈতিক, সামাজিক, মসজিদ ভিত্তিক ব্যবসায়ী সংগঠন গুলোর মাধ্যমে অন্তত ৫০ হাজার পরিবারে খাদ্যসহায়তা পৌঁছানো হয়েছে বলে উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে। বিপুল সংখ্য মানুষ দুর্যোগের এই সময়ে সহায়তা পাওয়ায় পরিবার গুলোতে সংকট কিছুটা হলেও লাঘব হয়েছে। করোনার দুর্দিনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার হিসেবে এ উপজেলায় ৬ হাজার ৮৩৪ জন ব্যক্তিকে ২৫০০ টাকা করে ঈদ উপহার প্রদান করা হয়েছে।
সরকারি পর্যায়ে মানুষের বাড়িতে খাদ্য সহায়তা পৌঁছানোর পাশাপাশি ঈশ্বরগঞ্জ আসনের এমপি ফখরুল ইমামের পক্ষ থেকেও খাদ্যসহায়তা পৌঁছানো হয়েছে। ঈদের আগ মুহুর্তে শিশুদের ঈদ আনন্দ বিলিয়ে দিতে শতাধীক শিশুর মাঝে নতুন জামা শুক্রবার দুপুরে বিতরণ করা হয় উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদ হাসান সুমনের পক্ষ থেকে প্রতিটি এলাকায় অসহায় মানুষের বাড়িতে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। উপজেলা যুবলীগের উদ্যোগেও খাদ্যসামগ্রী উপহার হিসেবে প্রদান করা হয়েছে। পৌরসভার মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস ছাত্তার ব্যক্তিগত উদ্যোগেও খাদ্যসহায়তা দিয়েছেন। সাবেক পৌর মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি হাবিবুর রহমানের উদ্যোগে খাদ্যসহায়তা দেওয়া হয়েছে। খাদ্যসহায়তা নিয়ে পাশের পাশে দাঁড়িয়েছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু, বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য শাহ নূরুল কবীর শাহীনও।
খাদ্যসহায়তা বিতরণ করা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের পথিযশা আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হকের অর্থায়নে উপজেলা আওয়ামী লীগের তত্মাবধানে। খাদ্যসহায়তা নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও আমেরিকা প্রবাসী মাসুদ হাসান তূর্ণ, আঠারবাড়ি রায়বাজার বণিক সমিতি, এনজিও সংস্থা আশা, গ্রামীন ব্যাংক, গ্রামাউস। সামাজিক সংগঠন মুক্তিরবন্ধন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ‘ফ্রি বাজার’ চালু করে বিনামূল্যে মানুষকে সকল ধরণের খাদ্যসহায়তা ঈদ উপলক্ষে ঈদ সামগ্রী নতুন জামা কাপড় বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া মায়ের দোয়া ইলেক্ট্রনিক্স নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক আতিকুর রহমান মন্ডল মহসিনের ব্যক্তিগত উদ্যোগে হাজারো মানুষের মাঝে অর্থ সহায়তা ও খাদ্যসহায়তা বিতরণ করা হয়েছে।
ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জাকির হোসেন বলেন, সরকারি খাদ্যসামগ্রী সুষ্ঠু ভাবে বণ্টনের পাশাপাশি রাজনৈতিক, ব্যক্তিগত, প্রতিষ্ঠান, মসজিদ ভিত্তিক, ব্যবসায়ী সংগঠন ও সামাজিক সংগঠন গুলোকে মানুষের পাশে দাঁড়াতো উদ্বুদ্ধ করা হয়। তারই ফলশ্রুতিতে উপজেলার প্রায় ৫০ হাজার পরিবার ইতোমধ্যে খাদ্যসহায়তা পেয়েছে। যা রেকর্ড সংখ্যক।
বার্তা বাজার/টি.সি