ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি ছাড়াই “আম্পান”মোকাবেলা করলো বরগুনাবাসী

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তি মাধ্যমে জানা যায় উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করা অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় আরো উত্তর পূর্ব দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

সে অনুযায়ী মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ৪ নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়, এ সংবাদ এর প্রেক্ষিতে ১৯মে সকাল ১১ জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নতুন ১২০ সাইক্লোন শেল্টারসহ সর্বমোট ৬২৯টি সাইক্লোন শেল্টার সার্বক্ষণিক খোলা রাখে জেলা প্রশাসন। একই সাথে ৪২টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়। জেলেদের সমুদ্রে না যাওয়ার জন্য হুঁশিয়ারি এবং সমুদ্রে অবস্থানকারীদের অবিলম্বে ফিরে আসার ব্যবস্থা করা হয়। দুর্যোগকালীন সময়ে লঞ্চ ও ফেরি পারাপার বন্ধের উদ্যোগ নেয়া হয়।

দুর্যোগ মোকাবেলায় একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সার্বক্ষণিক খোলা রাখা হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সমন্বয়ে প্রতিটি উপজেলায় ভিজিলেন্স টিম গঠন করা হয়। উদ্ধার তৎপরতার জন্য সংশ্লিষ্ট বাহিনীসমূহকে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়।

১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত চলাকালীন সময় সকলকে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। বুধবার রাত ১২টা পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য মতে বরগুনায় ৬২৯টি আশ্রয় কেন্দ্রে ২ লাখ ৬১ হাজার ৬৪৪ জন মানুষ এবং প্রায় ২৬ হাজার ৯৪২ টি গবাদি পশু আশ্রয় গ্রহণ করে। আশ্রয় কেন্দ্র সমূহে ইফতার এবং সেহরির পরিবেশন করা হয়, যারা রোজা রাখেনি তাদের জন্য সকালে শুকনো খাবার এবং দুপুর বেলা খাবার বিতরণ করা হয়।

এ পর্যন্ত ২’শ মেট্রিক টন চাল, ৩ লাখ টাকা, ২ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার,শিশু খাদ্য ক্রয় বাবদ ২ লাখ টাকা এবং গো খাদ্য ক্রয় বাবদ ২ লাখ টাকা পৌরসভাসহ উপজেলায় বিতরনের জন্য উপজেলা নির্বাহি অফিসার দের অনুকূলে বরাদ্দ প্রদান করা হয়।

প্রবল ঘূর্নিঝড় আম্পানের প্রভাবে বরগুনা জেলায় ৪টি পৌরসভা এবং ৪২টি ইউনিয়ন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে কোন প্রাণহানি ও আহতের ঘটনা ঘটেনি।

ঘূর্নিঝড় আম্পানে ২’শ ৫০ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়াও ৫০ হেক্টর শাকসবজি, ৭টি আমের বাগানসহ্ পানের বরজ ও মরিচের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘূর্ণিঝড়ে ১৫টি মুরগির খামার এবং ১৯টি গরুর খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এতে আনুমানিক ১লাখ ৯৫ হাজার ৯৬০ টাকার ক্ষতি হয়। মৎস বিভাগের তথ্যমতে, ১২১টি মাছের খামার, ১০টি চিংড়ির ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এবং ২০ মেট্রিকটন মাছের ক্ষতি হয়।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে ৫০টি টিউবওয়েল, ১০টি পুকুর এবং ১০ ওয়াটার হার্ভেস্টিং ট্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যার সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির পরিমান ২০ লখ টাকা। এছড়াও ঘূর্ণিঝড়ের কবলে ৪০ হাজার একর বনভূমি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

জেলা প্রশাসক জনাব মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, মহান সৃষ্টিকর্তার অপার কৃপায় বরগুনার আপামর জনসাধারণের সহযোগিতায় এ দুর্যোগ সফলভাবে মোকাবেলা করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরোও জানান, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসন বরগুনা প্রবল ঘূর্ণিঝড় আম্পানে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে আছে এবং থাকবে।

প্রসঙ্গত, ২০০৭ সালে প্রলয়ঙ্কারী ঘূর্ণিঝড় সিডরে ৩ হাজার ৪০৬ জন নিহত হয়, নিখোঁজ ১ হাজার ৩ জন। এরমধ্যে শুধু বরগুনাতেই ১ হাজার ৩৪৫ জন নিহত হয়েছিলেন। ফসলের ক্ষতি হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৩৯৩ একর। বিধ্বস্ত হয় ৬৮ হাজার ৩৭৯টি ঘরবাড়ি। ৩০ হাজার ৪৯৯টি গবাদিপশু মারা যায় এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয় ৪৮৪ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ।

কেএ/বার্তাবাজার

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর