টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলা প্রশাসনের মানবিকাতার খাতিরে বিক্রি হলো কৃষকের মিষ্টি কুমড়ো। বুধবার ২০ মে থেকে কৃষকের এসব মিষ্টি কুমড়ো ক্রয় শুরু করেন উপজেলা কৃষি বিভাগ। এতে ন্যায্য মূল্য পেয়ে মিষ্টি কুমড়ো বিক্রিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছে উপজেলার কতিপয় সবজি চাষীরা। জানা গেছে, করোনার ভাইরাসের কারনে টানা লকডাউনের জন্য হাট-বাজারগুলোতে মিষ্টি কুমড়ো বিক্রি করতে না পেরে চাষীরা পড়েন বিপাকে। মিষ্টি কুমড়ো পচনশীল সবজি হওয়া বেশিদিন ঘরে রাখলে লোকসান গুনতে হবে এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন সবজি চাষীরা। মিষ্টি কুমড়ো নিয়ে সবজি চাষীরা লোকাসানের মুখে যখন সময় পার করছে তখনই উপজেলা প্রশাসনের মানবিক হাত বাড়িয়ে দেয় সবজি চাষীদের দিকে। আর ক্রয় করার সিদ্ধান্ত নেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের মিষ্টি কুমড়ো।
ফলে উপজেলা প্রশাসনের কাছে ন্যায্য মূল্যে মিষ্টি কুমড়ো বিক্রি করতে পেরে খুশি হয়েছেন উপজেলার কতিপয় সবজি চাষীরা । আর উপজেলা কৃষি বিভাগের মাধ্যমেই এসব মিষ্টি কুমড়ো ক্রয় করছে উপজেলা প্রশাসন।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার প্রায় ২৫ হেক্টর জমিতে মিষ্টি কুমড়ো আবাদ হয়েছে। আর এসব মিষ্টি কুমড়ো চাষে কোন প্রকার কীটনাশক ব্যহার হয়নি। এসব মিষ্টি কুমড়োগুলোকে বিষমুক্ত সবজি বলাও চলে। তবে করোনা ভাইরাসের প্রভাবে এসব সবজি নিয়ে লোকসানের মুখে পড়েছে কৃষক। আর কৃষকের এ লোকসানের কথা ভেবেই উপজেলা প্রশাসনের সরকারের মানবিক সহায়তার পন্য তালিকায় চাউলের সাথে মিষ্টি কুমড়ো বিতরণের সিদ্ধান্ত এসেছে। সে কারণে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকের মাঝে থেকে মোট প্রায় ২ হাজার পিছে প্রায় ৪ হাজার কেজি পরিমানের মিষ্টি কুমড়ো ক্রয় করা হবে। আর এ লক্ষেই উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকের বাড়ি বাড়ি গিয়ে মিষ্টি কুমড়ো সংগ্রহ করছেন। এতে প্রতি কেজি মিষ্টি কুমড়ো ১৫ টাকা হার মূল্য ধরা হচ্ছে ।
মীরকুমুল্লী গ্রমের সবজি চাষী সুমন মিয়া জানান, তার ১২০ শতাংশ জমিতে মিষ্টি কুমড়ো আবাদ করেছেন। সেখান থেকে বিক্রি না করতে পেরে ৮০০ পিছ মিষ্টি কুমড়ো ঘরে মজুদ করেছেন। প্রতিটি মিষ্টি কুমড়োর প্রায় ৫ কেজি থেকে সর্বচ্চ ৩০ কেজি ওজনের মধ্য রয়েছে। তবে কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় ন্যায্য মূল্যে ২৫০ পিছ মিষ্টি কুমড়ো বিক্রি করতে পেরে অনেক খুশি হয়েছেন। সে আরও জানায়, সবজি বিক্রির টাকা দিয়ে ধান কাটা খরচের অনেকটাই মেটাতে পারবে।
বারপাখিয়া গ্রামের সবজি চাষী সেলিম মিয়া জানায়, প্রশাসনের নিকট সে ১০০ পিছ মিষ্টি কুমড়ো বিক্রি করতে পেরেছে। তবে ন্যায্য মূল্য পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। কিন্তু আরও বেশি পরিমান বিক্রি করার আশা ব্যক্ত করেন।
দেলদুয়ার সদর উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রাজিব মল্লিক জানান, কৃষকের নিকট থেকে ৪৫০ পিছ মিষ্টি কুমড়ো ক্রয় করেছেন। এতে কৃষকরা অনেক খুশি হয়েছেন।
এ ব্যাপারে দেলদুয়ার সিনিয়র উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শোয়েব মাহমুদ বলেন, স্থানীয় মাননীয় সংসদ সদস্য আহসানুল ইসলাম টিটু মহোদয়ের পরামর্শে এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা আক্তারের নির্দেশনা অনুযায়ী এসব মিষ্টি কুমড়ো ক্রয় করা হচ্ছে। আর এসব মিষ্টি কুমড়ো সরকারের মানবিক সহায়তার পন্য সামগ্রী সাথেই বিতরন করা হবে । এতে কৃষক এবং মানবিক সহায়তা গ্রহনকারী উভয়ই লাভবান হবেন বলেও জানান তিনি।
বার্তা বাজার/টি.বি