সুপার সাইক্লোন আম্পানের আঘাতে উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এর প্রভাবে জেলায় ২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১জন সিপিপির টিম লিডার। প্রচারণা কাজ চালাতে গিয়ে পানিতে ডুবে শাহ আলম নামের ওই ব্যাক্তির মৃত্যু হয়।
এছাড়াও বুধবার সন্ধ্যায় আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার সময় গাছের চাপায় এক শিশু নিহত হয়েছে।
এদিকে শহর রক্ষাবাঁধ উপচে শহর প্লাবিত হয়েছে। নিম্নাঞ্চলের অধিকাংশ রাস্তা এবং বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। যার ফলে জোয়ারের পানি প্রবেশ করে বাড়িঘর ডুবে গেছে। ভেসে গেছে অনেক চাষির মাছের ঘের। ওইসব এলাকার মানুষ সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রয় নিয়েছে।
সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটাসহ গোটা উপকুলীয় এলাকায় প্রচণ্ড বেগে ঝড়ো বাতাসের সাথে বৃষ্টি হয়। বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে সমুদ্রে বড় বড় ঢেউ আছড়ে পড়ে। ঝড়ে জেলার গলাচিপা উপজেলার পানপট্টি বাজারের ১০/১২টি দোকান উপড়ে পড়ে। পায়রা নদীর পানি বিপদসীমার ১৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হ্য়। যার ফলে কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালী উপজেলার ১৭টি চরের ২০টি গ্রাম পানিতে প্লাবিত হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে পটুয়াখালীতে ভাঙা বাঁধ ও নতুন করে বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে প্লাবিত হয়েছে। পটুয়াখালী শহর রক্ষাবাঁধ উপচে শহর প্লাবিত হয়েছে। রাত ১০টার পর শহরে পানি ডুকতে থাকে। শহরের পুরান বাজার, নিউ মার্কেট, সেন্টার পাড়া, ৯নং ওয়ার্ড ও পৌর এলাকার বেশ কিছু এলাকায় জোয়ারের পানি প্রবেশ করেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হাসানুজ্জামান জানান, বিপদসীমার ১৭৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। পায়রা লোহালিয়া, তেতুলিয়া নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে পানি প্রবেশ করছে।
জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা ত্রান ও পূনর্বাসন কর্মকর্তা মো. মাহাবুবুর রহমান জানান, রাঙ্গাবালী, গলাচিপা ও কলাপাড়ার অবস্থা খুবই ভয়ানক। বিপদ সীমার উপর দিয়ে পানি চলে আসছে, প্রচুর ঘর বাড়ি প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া দুই জন মারা গেছে।
তিনি আরও বলেন , কিছু জায়গায় বাধ ভেঙ্গে গেছে। ক্ষয়-ক্ষতির হিসেব তাৎক্ষনিক দেওয়া সম্ভব না।
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, জেলার দশমিনা, গলাচিপা, রাঙ্গাবালী ও কলাপাড়া এলাকার ৫০ টি চর প্লাবিত হয়েছে। এছাড়াও অনেক মাছ চাষীর মাছের ঘের ভেসে গেছে।
দুমকী উপজেলার স্থানীয় বাসিন্দা রফিক মজুমদার জানান, দুমকী উপজেলার পাংগাশিয়া ইউনিয়নের রাজগঞ্জ এলাকার ওয়াপদা বেড়িবাঁধের ওপর দিয়ে পায়রা নদীর পানি প্রবল বেগে প্রবেশ করে উত্তর পাংগাশিয়া, দক্ষিন পাংগাশিয়া, রাজাগঞ্জসহ অন্ততঃ পাঁচ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। অপরদিকে লেবুখালী ফেরীঘাট এলাকা তলিয়ে গেছে। নির্মানাধীন লেবুখালী সেতুর দক্ষিনপাড়ের সড়ক প্রায় মৌকরণ ব্রিজ পর্যন্ত পানিতে ডুবে গেছে। ঘূর্ণীঝড় আম্পানের তাণ্ডবে দুমকি উপজেলার পাংগাশিয়া কলেজ ভবনের চাল উড়িয়ে নিয়ে গেছে।
বার্তা বাজার / ডাব্লিও.এস