২ হাজার হতদরিদ্রকে খাদ্য সহায়তা প্রদান করলেন রাজীব!

করোনা সংক্রমনের শুরু থেকে এপর্যন্ত গত তিনমাসে সাভারের বিশ হাজার পরিবারকে কয়েক দফায় ব্যক্তিগত অর্থায়নে খাদ্য সহায়তা প্রদান করেছেন বলে জানালেন সাভার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম রাজীব।

বুধবার (২০ মে) সাভার উপজেলা চত্বরে নিজের সরকারি বাসভবনের সামনের মাঠে ইফতার সামগ্রী বিতরণ কালে উপস্থিত সাংবাদিকদের একথা জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, সাভার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জননেতা মঞ্জুরুল আলম রাজীব এর নিজস্ব অর্থায়নে পবিত্র মাহে রমজানের প্রথম দিন থেকে উপজেলা চত্বরে হতদরিদ্র রোজাদারদের মাঝে এক বেলার জন্য উন্নত খাবার হিসেবে ভুনা খিচুড়ি বিতরণ করা হয়ে আসছে।

পরে এই উন্নত মানের ইফতার সামগ্রী উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নগুলোতেও বিস্তৃত করেন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় ভাকুর্তা, আমিনবাজার, বনগাঁও, বিরুলিয়া, আশুলিয়া প্রভৃতি ইউনিয়নে নিজে উপস্থিত থেকে সাধারণ হতদরিদ্র মানুষের মাঝে এই ইফতার সামগ্রী বিতরণ করেন তিনি।

ছবি:বার্তাবাজার।

বুধবার (২০ মে) প্রথমে উপজেলা চত্বরে বারশো মানুষকে ইফতার বিতরণ করেন মঞ্জুরুল আলম রাজীব। এরপর সাভারের সিআরপি ডগরমোড়া এলাকায় আটশো হতদরিদ্র, কর্মহীন ও পঙ্গু মানুষের মাঝে ইফতার সামগ্রী হিসেবে ভুনা খিচুড়ি বিতরণ করেন।
ছবি:বার্তাবাজার।

উপজেলা চত্বরে গণমাধ্যমকর্মীদের মঞ্জুরুল আলম রাজীব জানান, করোনা সংক্রমণের জন্য চলমান লকডাউনের কারণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার ‘উপহার’ ত্রাণ সুষ্ঠুভাবে জনগণকে পৌঁছে দেবার পাশাপাশি এই প্রায় তিন মাসে এ পর্যন্ত আমার ব্যক্তিগত অর্থায়নেও প্রায় বিশ হাজার পরিবারকে কয়েক দফায় খাদ্য সহায়তা প্রদান করেছি।

এসময় তিনি জানান, হতদরিদ্রদের পাশাপাশি নিম্নবিত্ত সহ অনেক মধ্যবিত্তরাও ইফতার সামগ্রী ক্রয় করবার মতো সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছেন। কারণ চলমান লকডাউনের কারণে এই বছর যেমন ইফতার সামগ্রী নিয়ে দোকানদাররা পসরা সাজিয়ে বসেন নাই, তেমনি সকল শ্রেণির মানুষের সঞ্চিত অর্থও শেষ হয়ে যাওয়ায় এসব ক্রয় করার মতো সামর্থ্যও সবার নেই।

এজন্যই রমজানের শুরু থেকে মাসব্যাপী সকল স্তরের মানুষের জন্য আমি ইফতার সামগ্রী হিসেবে একটু উন্নত মানের খাবার ভুনা খিচুড়ি প্রদান করছি।

মঞ্জুরুল আলম রাজীব আরও বলেন, হতদরিদ্র মানুষের জন্য সরাসরি খাদ্য সহায়তা প্রদান করা সম্ভব হলেও মধ্যবিত্ত বলে যে একটা শ্রেণি আছে, তারা তাদের সামাজিক অবস্থানের কারণে ওভাবে ত্রাণ বা খাদ্য সহায়তা গ্রহণ করতে পারেন না।

এদের কথা চিন্তা করেই আমি ‘হটলাইন’ নাম্বারের ব্যবস্থা করেছি, সেখানে সাহায্যপ্রার্থী যে কেউ কল করলে আমি নিজে কিংবা আমার সাথে থাকা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যরা রাতের আঁধারে তাদের দোরগোড়ায় খাবার পৌঁছে দিয়ে আসি। এভাবে প্রায় বিশ হাজার পরিবারকে খাদ্য সহায়তা প্রদান করেছি।

ছবি:বার্তাবাজার।

এই খাদ্য সহায়তা প্রদান কার্যক্রম করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত চলমান থাকবে বলেও জানান তিনি।পরে, সাভারের সিআরপি ডগরমোড়া এলাকায় আটশো হতদরিদ্র রোজাদারদের মাঝে ইফতার হিসেবে ভুনা খিচুড়ি বিতরণ করেন তিনি।

ওই দুই জায়গায় খাদ্য সহায়তা প্রদানের সময় মঞ্জুরুল আলম রাজীবের সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন- ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদ চৌধুরী, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক হাসান তুহিন, ঢাকা জেলা উত্তর স্বেচ্ছাসেবক লীগ এর সাধারণ সম্পাদক সায়েম মোল্লা, সাভার উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ এর সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত হোসেন, সাভার উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আতিকুর রহমান আতিক, মাজহারুল ইসলাম রুবেল প্রমুখ সহ সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের সকল নেতাকর্মীবৃন্দ।

কেএ/বার্তাবাজার

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর