যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের কলারোয়া উপজেলা সদরের অংশের এতটাই বেহাল অবস্থা যে বোঝার অবস্থা নেই এটি সড়ক নাকি অন্য কিছু। পিচের ছাল-চামড়া উঠে শুধু খানাখন্দে পরিণত হয়নি, বড় বড় গর্তে রূপ নিয়েছে। প্রতিনিয়ত ঘটে দূর্ঘটনাও।
সামান্য বৃষ্টিতে জমছে পানি আর শুকনোর সময় ধূলাবালিতে থাকে কুয়াশাচ্ছন্ন।
যশোরের শার্শা এড়িয়া পেরিয়ে সাতক্ষীরা জেলার প্রবেশদ্বার কলারোয়া উপজেলার বাগুরি-বেলতলা থেকে গোপীনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার প্রবেশদ্বার পর্যন্ত এই মহাসড়কের কলারোয়া উপজেলা অংশের বেশির ভাগ স্থানের অবস্থা অত্যন্ত করুণ। বিশেষ করে কলারোয়া উপজেলা সদর তথা পৌর সদরের অংশের প্রধান এই সড়কের অবস্থা এতোটাই খারাপ যে পায়ে হেঁটে চলতে গেলেও পড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়।
এই মহাসড়কটি যেমন জনগুরুত্বপূর্ন তেমনি রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটেও অবদান রাখছে। অথচ এটি সংস্কার ও উন্নয়নে জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরসহ দায়িত্বশীদের বলিষ্ঠ কার্যকর ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ জনমনে।
অদৃশ্য, অযৌক্তিক আর দীর্ঘসূত্রিতার বেড়াজালে আটকে রাস্তা পুননির্মান বা সংস্কার না করায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ওই রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী সকলে।
ভুক্তভোগীরা জানান, ‘যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়ক দেশের অন্যতম ব্যস্ততম এবং গুরুত্বপূর্ণ একটি যোগাযোগ ব্যবস্থা। তাছাড়া দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ল্যান্ড পোর্ট ভোমরা স্থল বন্দর যাতায়াতের অন্যতম অর্থনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক এটি। কিন্তু যথাযোগ্য রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ও যথাযোগ্য কর্তৃপক্ষ উদাসীনতার কারণে দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কটির আজ এই বেহাল দশা।
তারা আরো জানান- ‘দেখে বোঝার উপায় নেই যে এটি একটি মহাসড়ক নাকি জলাবদ্ধ লেক। প্রতিদিন অসংখ্য গাড়ি যাতায়াত করে এই মহাসড়ক দিয়ে। প্রায়ই ঘটে দূর্ঘটনা কিন্তু দেখার জন্য কেউ নেই। থানা সদরের হসপিটাল থেকে গুরুত্বপূর্ণ রোগী জেলা সদরে নিয়ে যেতেও পোহাতে হয় নানা ভোগান্তি।’
অভিযোগের সুরে তারা বলেন, ‘মেয়াদ ও বছরে বছরে “কতিপয় নেতা-জনপ্রতিনিধি-কর্মকর্তাদের” ভাগ্যের ব্যাপক উন্নয়ন হয়। কিন্তু আর কত মেয়াদ গেলে ও কত বছর পার হলে এই রাস্তার উন্নয়ন হবে?
নেতা-জনপ্রতিনিধি-কর্মকর্তারাও তো এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করেন, তাদের বিবেক কী দংশন করে না?’
যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ পূর্বক অতি দ্রæত রাস্তার সংস্কার কাজ সম্পন্ন করে যাতায়াতের স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে নিতে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে দ্রুত রাস্তাটি সংস্কারের দাবি জানান স্থানীয়
জনগণ।
বার্তা বাজার/পি.বি