করোনাভাইরাসের সুযোগে ঘাটাইলে চলছে অবাধে জুয়া খেলা

করোনাভাইরাসের কারণে দেশে যখন ক্রান্তিকাল চলছে। বিশেষ প্রয়োজন থাকা সর্ত্বেও মানুষ যখন ঘর থেকে বের হতে পারছেনা। ঠিক সেই সময়ে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার দেওপাড়া ইউনিয়নের মালেঙ্গা চৌরাসা এলাকায় অবাদে জুয়া খেলা চলছে। ফলে প্রতিদিন শতাধিক লোক জুয়ার বোডে আড্ডা বসায় এদিকে মরনব্যধি করোনা সংক্রামক বৃদ্ধি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে অপরদিকে এলাকার সাধারণ মানুষ জুয়ার ফাঁদে পড়ে সর্বশান্ত হচ্ছে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায় মাকড়াই কুমারপাড়া গ্রামের মৃত হাকিম উদ্দিনের ছেলে নামকরা জুয়াড়ো নায়েব আলী, সন্ধানপুর ইউনিয়নের দিয়াবাড়ী গ্রামের আবু তালেব মেম্বারের ছেলে মিনু মিয়া ও পাহাড় গাঞ্জানা গ্রামের মৃত হামেদ আলীর ছেলে নজরুল ইসলাম এর নেতৃত্বে এলাকার আরো ৪০/৫০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল প্রতিদিন দেওপাড়া চৌরাসা ও মালেঙ্গা এলাকায় বনের ভিতরে প্রায় ২০-২৫ লক্ষ টাকার জুয়া খেলা পরিচালনা করে আসছে। গত ১০ ও ১৪ মে সরেজমিনে গেলে সংঘবদ্ধ জুয়াড়ীরা সংবাদকর্মীর আনাগোনা পেয়ে মুহুর্তে সটকে পড়ে।

পরে জুয়া বোর্ডের ক্যাশিয়ার নায়েব আলীর নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আগে জুয়া খেলতাম এখন আর খেলিনা।

পরে নায়েবের সহযোগী দিয়াবাড়ী গ্রামের মিনু মিয়ার নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, করোনার কারনে সময় কাটেনা বলে এলাকার কিছু লোক নিয়ে ছোট ধরনের বোর্ড চালাই। ভাই কাউকে কিছু বলবেনা একটা বিকাশ নম্বর দেন কিছু খরচ পাঠাই।

পরবর্তী ১৬ মে এলাকায় গেলে মালেঙ্গা চৌরাশা এলাকার মধ্যবয়সী এক কৃষক নাম প্রকাশ না করা শর্তে জানান নায়েব আলী, মিনু মিয়া ও নজরুল গংরা বার বার জুয়া বোর্ড পরিচালনা করার ফলে এলাকার প্রায় ১শ পরিবার জুয়ার ফাঁদে পড়ে সর্বশান্ত হয়েছে। সেই খেলার জের ধরে অনেকে আজও ঋণের ভয়ে পলাতক রয়েছে। কেউ কেউ ভয়ে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছে। সেই জুয়াড়ো চক্র আবারো নতুন করে ১মাস যাবত জুয়া খেলা পরিচালনা করে আসছে। জানিনা এবার কার ভাগ্যে কি আছে।

এ বিষয়ে দেওপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাঈন উদ্দিন তালুকদার (তারু) এর নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান এর আগেও এই জুয়াড়ো চক্রকে পুলিশ দিয়ে ধরে দিয়েছিলাম এলাকার প্রয়োজনে আবারো ধরিয়ে দিতে হবে। কারন আমি এসব কর্মকান্ড মোটেও পছন্দ করিনা।

এসব জুয়া খেলার বিষয়ে ঘাটাইল থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) মাকছুদুল আলম এর নিকট জানতে চাইলে তিনি জুয়ার কথা শুনে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে বলেন আমি আজকের মধ্যে ওদেরকে ধরে আনার ব্যবস্থা করছি।

বার্তা বাজার/পি.বি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর