প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহারে চেয়ারম্যানের ২৮০ টাকা ট্যাক্স

দেশ যখন কঠিন সংকটে, তখন দেশের অসহায় মানুষের কথা চিন্তা করে ৫০ লাখ মানুষকে ঈদ উপহার হিসেবে ২৫০০ টাকা দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। আর এ সুযোগে অনেকেই করছেন অনিয়ম। এবার ভিন্ন কায়দায় প্রধানমন্ত্রীর উপহারে ট্যাক্স বসালেন বগুড়ার শিবগঞ্জের ময়দানহাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এসএম রুপম।

অসহায় দরিদ্রদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ঈদ উপহার পেতে বগুড়ার শিবগঞ্জে বিকাশ অ্যাকাউন্ট খুলতে জনপ্রতি ৫০০ টাকা করে নেয়া হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার উপজেলার ময়দানহাট্টা ইউনিয়নের দাড়িদহ বাজারের রাহী টেলিকমে ঘটে যাওয়া এমন একটি ঘটনার ভিডিওচিত্র ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে।

পরে খবর পেয়ে রাহী টেলিকমের স্বত্বাধিকারী এরফান আলীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনে পুলিশ। পুলিশি জিজ্ঞাসাবদে তিনি বলেন, ‘আমরা বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলাসহ প্রতিটি সিমকার্ড ২২০ টাকায় বিক্রি করেছি। বাকি ২৮০ টাকা রশিদমুলে ময়দানহাট্টা ইউনিয়ন পরিষদের ট্যাক্স বাবদ আদায় করতে বলেছেন চেয়ারম্যান।

তাই সব মিলিয়ে ৫০০ টাকা করে নিয়েছি। এদিকে ঘটনাটি নিয়ে সোস্যাল মিডিয়ায় প্রকাশের পর সারাদেশে সমালোচনার ঝড় ওঠে। ঘটনার তদন্তে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আল মুজাহিদ সরকার কে প্রধান করে গত শনিবার তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)।

সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, দাড়িদহ বাজারের রাহী টেলিকমের সামনে লম্বা লাইন। লাইনে দাঁড়ানো সবাই প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার হিসেবে তালিকাভুক্তদের অনেকের বিকাশ নম্বর নেই। এজন্য রাহী টেলিকম ৫০০ টাকা নিয়ে তাদের বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলা সিমকার্ড বিক্রি করছে।

এসময় ময়দানহাট্টা ইউনিয়নের বাহাগুল পাড়া গ্রামের জরিনা বেগম, বেলী বেগম ও ফিরোজা বেগম, চাঁদনগর গ্রামের লাইলী বেগমসহ অনেকেই বলেন, ‘আমাদের সবার কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে নিয়ে বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলা সিম কার্ড দেওয়া হয়েছে। ২০০ টাকা করে সিমকার্ড কিনতে চাইলেও তা দেওয়া হয়নি।’ এসময় বালুপাড়া গ্রামের মিনি বেগম বলেন, ‘টাকা নেই দেখে মুন্সির মাইনা দিতে পারছি না। তারপরও একজনের কাছ থেকে ধার করে এনে ৫০০ টাকা দিলাম।’

এ প্রসঙ্গে ইউপি চেয়ারম্যান এসএম রুপম বলেন, ‘অনেক দিন ধরেই ইউনিয়ন পরিষদের ট্যাক্স বকেয়া ছিল। তাই সচিবের সাথে পরামর্শ করে ট্যাক্স আদায়ের জন্য ডিডি এলজির রশিদ মূলে ২৮০ টাকা আদায় করা হয়েছে। পরে ভুল বুঝতে পেরে সবার বিকাশ অ্যাকাউন্টে ২৮০ টাকা করে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

এব্যাপারে মঙ্গলবার দুপুরে তদন্ত কমিটির প্রধান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আল মুজাহিদ সরকার বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তদন্ত প্রতিবেদন জমাদানের জন্য তিন দিন সময় বেধে দিয়েছেন। এরই মধ্য আমরা ৫০০ টাকা করে নেয়ার প্রমাণ পেয়েছি। ভিডিওতে যেসব মহিলা সাক্ষাৎকার দিয়েছেন তাদের বক্তব্য জেনেছি। এসময় তিনি বলেন, কমিটির অন্য সদস্যরা ব্যস্ত থাকায় তদন্তে আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে।

শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ‘ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর শনিবার সন্ধ্যায় রাহী টেলিকমের স্বত্বাধিকারী এরফান আলীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়। তিনি পুলিশকে জানান, প্রতিটি সিম ২২০ টাকায় বিক্রি করা হলেও বাকি ২৮০ টাকা ইউপি চেয়ারম্যান রুপম ইউনিয়ন পরিষদের ট্যাক্স হিসেবে রশিদ মূলে আদায় করেছেন। প্রায় ১৬৫ জনের কাছ থেকে এই টাকা আদায় করা হয়। পরে বিষয়টি ভুল বুঝতে পেরে ১২০ জনের বিকাশ নম্বরে ওই টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।

শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলমগীর কবির বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর শনিবার বিকেলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আল মুজাহিদ সরকারকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত এপ্রিলে ১০ টাকা কেজি দরের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে শিবগঞ্জের ময়দানহাট্টা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এসএম রূপমের ভাই মশিউর রহমানের ডিলারশিপ বাতিল করা হয়। দুদক বগুড়া সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। ওই ঘটনা দেখে ফেলায় এক মহিলা ইউপি সদস্য ও সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়ায় শাজাহান নামের এক সংবাদ কর্মীকে মারপিট করারও অভিযোগ ওঠে চেয়ারম্যান রুপমের বিরুদ্ধে।

কেএ/বার্তাবাজার

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর